প্রকাশিত :  ১২:১৬
৩০ জুন ২০২৬

গোল বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘তামাশা’ বললেন জার্মান কোচ, শিয়েরারের চোখে ‘ভয়ংকর’

গোল বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘তামাশা’ বললেন জার্মান কোচ, শিয়েরারের চোখে ‘ভয়ংকর’

অতিরিক্ত সময়ে ইয়োনাথান টাহর গোলে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দে উদযাপন নিয়ে তখন ব্যস্ত জার্মানি। কিছুক্ষণ পর রেফারিকে মনিটর দেখতে ডাক দিলেন ভিএআর। কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে গোলটি বাতিল করে দিলেন রেফারি। যা একদমই ভালো লাগেনি ইউলিয়ান নাগেলসমানের। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে হেরে যাওয়া জার্মানির কোচ বললেন, ওই গোল না দেওয়া তামাশা ছাড়া কিছুই নয়।

ম্যাচের তখন ১০২ মিনিট। ১-১ সমতা শেষে অতিরিক্ত সময়ের খেলা চলছিল তখন। সে সময় ডিফেন্ডার নাথানিয়েল ব্রাউনের কর্নার থেকে জার্মানিকে আনন্দে ভাসালেন জোনাথন টাহ। ভেসে আসা বলে হেড দিয়ে। 

বল জালে জড়ানোর পর জার্মানদের তখন আনন্দের শেষ নেই। ডিফেন্ডার অ্যান্টোনি রুডিগার তো সতীর্থ টাহকে উচ্ছ্বাসে ঘাড়ে তুলে নিলেন।

নেওয়াটাই স্বাভাবিক। বাকি সময় কোনো রকম শেষ করতে পারলেই শেষ ষোলো নিশ্চিত জার্মানির। 

কিন্তু কয়েক মিনিট পরেই উল্টো চিত্র দেখল জার্মানি। ভিএআরের কারণে বুনো উল্লাসটা পূর্ণতা পেল না।

মনিটরে দেখার পর টাহর গোল বাতিল করেন মরক্কোর রেফারি জালাল জায়েদ। গোল বাতিলে কারণ হিসেবে রেফারি জানান, টাহ হেড নেওয়ার আগে তার সতীর্থ ভালডেমার আন্টন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরলান্দো হিলেকে ফাউল করেন। 

গোল বাতিলের পর পরে টাইব্রেকারে ম্যাচ হারে জার্মানি। সাডেন ডেথে জার্মানির হয়ে শেষ শটটি বারের ওপর দিয়ে মারেন টাহ। তাতে জিতে যায় প্যারাগুয়ে।

অন্যদিকে নায়ক হওয়ার বিপরীতে খলনায়ক হয়ে থাকলেন জার্মানির ডিফেন্ডার।

তবে ম্যাচ শেষে গোল বাতিল হওয়া মানতে পারেননি ইউলিয়ান নাগেলসমান। ৩৮ বছর বয়সী কোচের মতে, এটা তামাশা ছিল। এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে কম বয়সী কোচ বলেছেন, ‘আমার মতে, ফাউলটা মোটেও আসল ফাউল ছিল না। গোল বাতিল করাটা তামাশা ছাড়া আর কিছু ছিল না।’ গোলটি বাতিলের সময় প্রতিবাদ করায় সে সময় হলুদ কার্ড দেখেন নাগেলসমান।

জার্মান কোচের সুরেই অনেকটা কথা বলেছেন অ্যালান শিয়েরার। ইংল্যান্ডের ফুটবল কিংবদন্তির মতে, সিদ্ধান্ত অত্যন্ত বাজে ছিল। বিবিসি ওয়ানকে তিনি বলেছেন, ‘সিদ্ধান্তটির সঙ্গে আমি বিন্দুমাত্র একমত নই। সামান্য স্পর্শেই গোলরক্ষক মাটিতে পড়ে গেল। এটা খুবই হালকা ফাউল ছিল। আমার মতে, এটা অত্যন্ত ভয়ংকর সিদ্ধান্ত ছিল। আপনাকে বুঝতে হবে এটা শারীরিক সংস্পর্শের খেলা। গোলরক্ষক আসলে রেফারি এবং ভিএআরকে ধোঁকা দিয়েছে। তার মাটিতে পড়ে যাওয়ার ধরণ সত্যি করুণ ছিল।’


Leave Your Comments




খেলাধুলা এর আরও খবর