প্রকাশিত :  ০৭:৫১
২৬ জুন ২০২৬

তোমার দুটি হরিণ চোখ

তোমার দুটি হরিণ চোখ খোঁজে কি আর আমায়

তবু কেন রোজ সন্ধ্যা নামে তোমারই নীরবতায়?

অশথপাতা ঝরে পড়ে ঘাসের গভীর বুকে,

আমার যত না-বলা কথা শুকিয়ে থাকে সুখে।

অঘ্রাণ এসে বসেছে আজ ধানের হলুদ ক্ষেতে,
আমাদেরও হেমন্ত নেমেছিল বহু আগে নিভৃতে।
তোমার মুখে আবছা আলো, জলে সন্ধ্যার ছায়া,
একটি কথাও বলিনি আমি, তবু ছিল কত মায়া।

[কোরাস]

তুমি চলে গেছ দূর আকাশের নির্লিপ্ত নক্ষত্র হয়ে,
আমি কুয়াশার প্রান্তরে আজও তোমার পথ বয়ে।
চিল উড়ে যায়, পাখি ঘরে ফেরে, ফুরায় দিনের সব,
শুধু আমার বুকের ভেতর তোমার নামের কলরব।


[অন্তরা ২]

লক্ষ্মীপেঁচা নেমে আসে বাবলার গাঢ় আঁধারে,
হিজল পাতার ফাঁক গলে রাত ডুবে যায় অচেনা সুরে।
নীলচে ঘাসের ফুলের মতো নীরব আমার প্রাণ,
ফড়িংয়ের ডানায় লেগে থাকে তোমায় হারানোর গান।

ঝাউফল পড়ে মাঠের ধারে, বাতাস কাঁদে চুপে,
খড়কুটোর মতো স্মৃতিগুলো জড়ায় হৃদয়রূপে।
সজনে পাতার গন্ধ ভেসে বলে যায় নিরালায়—
যে প্রেম একদিন হারিয়ে যায়, সে কি কোনোদিন যায়?

[কোরাস]

তুমি চলে গেছ দূর আকাশের নির্লিপ্ত নক্ষত্র হয়ে,
আমি কুয়াশার প্রান্তরে আজও তোমার পথ বয়ে।
চিল উড়ে যায়, পাখি ঘরে ফেরে, ফুরায় দিনের সব,
শুধু আমার বুকের ভেতর তোমার নামের কলরব।


[ব্রিজ]

আলেয়ার মতো দোলে ধান, শূন্য হয়ে যায় আকাশ,
সময় শুধু নদীর মতো বয়ে নিয়ে যায় সর্বনাশ।
তুমি সরে গেছ প্রান্তর, নদী, নক্ষত্রের ওপারে,
আমি রয়ে গেছি একা শুধু হেমন্তের অন্ধকারে।


[শেষ কোরাস]

যদি কোনোদিন অঘ্রাণ নামে আমার শেষ বিকেলে,
তোমার স্মৃতি শিশির হয়ে ঝরবে নীরব মেলায়।
তুমিহীনা এ ধরনী যেন বিধ্বস্ত বিরহী ঝড়ে,

তাবৎ প্রেম ফুরালেও স্মৃতির পসরা রবে পড়ে।




Leave Your Comments




সাহিত্য এর আরও খবর