প্রকাশিত :  ০৬:২০
২৫ জুন ২০২৬

চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় খোলার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় খোলার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনে শিগগিরই বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় খোলার ঘোষণা দিয়েছেন । সেই সঙ্গে বাংলাদেশে ভ্যালু চেইন সম্প্রসারণে চীনা কোম্পানিগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বিনিয়োগ ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শিগগিরই চীনে আমাদের প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয’ খুলতে যাচ্ছি। আমাদের উদ্দেশ্য খুবই সহজ। চীনা বিনিয়োগকারীদের সহায়তা পাওয়ার জন্য বাংলাদেশে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। আমরা আপনাদের আরও কাছাকাছি থাকতে, আপনাদের সাথে আরও নিয়মিত কথা বলতে এবং আগ্রহ থেকে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করতে আপনাদের সাহায্য করতে চাই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বহু দশকের একটি সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এটি আস্থা, শ্রদ্ধা এবং বাস্তব সহযোগিতার একটি সম্পর্ক।  বিগত বছরগুলোতে এই সম্পর্কটি কূটনীতি থেকে উন্নয়নে, উন্নয়ন থেকে বাণিজ্যে এবং এখন বাণিজ্য থেকে আরও গভীর শিল্প অংশীদারিত্বে রূপান্তরিত হয়েছে। আজ আমি সেই পরবর্তী অধ্যায়টি নিয়ে কথা বলতে চাই।

সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ এক বিশাল অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের যাত্রাপথের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি এবং আমি স্পষ্টভাবে বলতে পারি যে, বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত এবং আমাদের অন্যতম দীর্ঘদিনের ও বিশ্বস্ত বন্ধু চীনের সাথে কাজ করতে আগ্রহী।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বিনিয়োগ আকর্ষণে আমলাতান্ত্রিক জড়তা দূর করতে তার সরকার ইতোমধ্যে ১৮০ দিনের কঠোর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এখন থেকে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে নতুন ব্যবসার লাইসেন্স অনুমোদন করা হবে। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বৈষম্যহীন আচরণ, আমাদের আইন ও প্রবিধান অনুযায়ী মূলধন ও লভ্যাংশ ফেরত এবং শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা আশা করতে পারেন

এছাড়াও চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মোংলায় দ্বিতীয় জোনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে জানান সরকারপ্রধান। এই স্থানগুলো লজিস্টিকস, বন্দর সংযোগ, পরিষেবা, কর্মী, সরবরাহকারী এবং একটি দীর্ঘমেয়াদী ইকোসিস্টেম প্রদান করে বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আইটি, উন্নত বস্ত্রশিল্প ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে বিশেষ নীতিগত সুবিধা ও প্রণোদনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ ফেরত নেওয়া ও আইনি সুরক্ষার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের পরবর্তী অর্থনৈতিক বিস্ময়ের অংশীদার হওয়ার জোর আহ্বান জানান।



Leave Your Comments




জাতীয় এর আরও খবর