প্রকাশিত : ০৭:০৩
২৩ জুন ২০২৬
মিয়ানমারে গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটির সামরিক বাহিনীর হামলায় অন্তত ৭০২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সোমবার প্রকাশিত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২২৪ জন নারী এবং ১৫৩ জন শিশু রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানির প্রধান কারণ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিমান হামলা। এর মধ্যে অন্তত ৫০৫ জন বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ফাইটার জেট, ড্রোন, প্যারা-মোটর এবং জাইরোকপ্টার ব্যবহার করে চালানো হামলায়।
জাতিসংঘের মুখপাত্র রভিনা শামদাসানি জানান, এই ৭০২ জনের মৃত্যুর জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনী দায়ী। তবে এর অর্থ এই নয় যে, অন্য কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর কারণে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়নি।
২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। টানা পাঁচ বছর সামরিক শাসনের পর জান্তা সরকার একটি নির্বাচন আয়োজন করে। এতে তাদের রাজনৈতিক মিত্ররা জয়লাভ করে এবং অভ্যুত্থানের নেতা মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট হন। তবে গণতন্ত্র পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো একে সামরিক শাসন টিকিয়ে রাখার জন্য প্রহসনমূলক নির্বাচন বলে আখ্যায়িত করেছে।
জাতিসংঘ জানায়, এই নির্বাচনের আগে ও পরে দেশটিতে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মিয়ানমারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) পাঠানোর পাশাপাশি দেশটিতে অস্ত্র ও জেট ফুয়েল সরবরাহ বন্ধ করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।