সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার দীর্ঘদিনের চারটি জনদাবি—মেডিকেল কলেজ স্থাপন, শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু, সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর এবং ঢাকা-শ্রীমঙ্গল রুটে একটি আন্তনগর ট্রেন চালুর প্রস্তাব—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে সরাসরি তুলে ধরেছেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম. নাসের রহমান। এসব দাবিকে ঘিরে জেলা জুড়ে চলছে আলোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা বিশ্লেষণে উঠে আসছে উন্নয়ন ও জনস্বার্থের বিষয়গুলো।
বুধবার (১৭ জুন) মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তৃতীয় পর্যায়ের ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এমপি নাসের রহমান জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতেই তিনি চারটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের অনুরোধ জানান।
বর্তমান হাসপাতালেই মেডিকেল কলেজের প্রস্তাব
বক্তব্যে নাসের রহমান বলেন, জেলার সবচেয়ে বড় দাবি একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা। নতুন জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই বর্তমান মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের অবকাঠামোর মধ্যেই এটি গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
তিনি জানান, এ বিষয়ে একটি পরিকল্পনা তৈরি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত মিললে আগামী অর্থবছরেই কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
শমশেরনগর বিমানবন্দর চালুর দাবি
প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে শমশেরনগর বিমানবন্দর পুনরায় চালুর বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, বর্তমানে সিলেট বা ঢাকায় নেমে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে জেলায় পৌঁছাতে হয়। বিমানবন্দরটি চালু হলে প্রবাসী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে।
নাসের রহমান বলেন, বিদ্যমান রানওয়ে সংস্কার এবং একটি ছোট টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করলেই বিমানবন্দরটি চালু করা সম্ভব। এতে তুলনামূলক কম ব্যয় হবে।
সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার প্রস্তাব
মৌলভীবাজার সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিও তুলে ধরেন সংসদ সদস্য। তাঁর ভাষ্য, কলেজটির নিজস্ব জায়গা ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা রয়েছে। ফলে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা সম্ভব।
পর্যটননগরীর জন্য ঢাকা-শ্রীমঙ্গল আন্তনগর ট্রেনের দাবি
প্রধানমন্ত্রীর সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেন এমপি নাসের রহমান। দেশের সাবেক সফল অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের সন্তান ও জেলার স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি ঢাকা-শ্রীমঙ্গল রুটে একটি আন্তনগর ট্রেন চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র শ্রীমঙ্গলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসেন। কিন্তু ঢাকা থেকে সরাসরি শ্রীমঙ্গলের জন্য ট্রেনের টিকিট পাওয়া কঠিন। একইভাবে শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারের বাসিন্দাদেরও ঢাকাগামী ট্রেনের টিকিট সংগ্রহে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।
চা-বাগান, হাওর, পাহাড়, বনাঞ্চল ও নানা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ মৌলভীবাজারকে দেশের অন্যতম পর্যটন জেলা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গল পর্যটনের প্রাণকেন্দ্র। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও শ্রীমঙ্গলে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য পর্যটন স্পট ঘিরে সারা বছর দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা আসেন। সহজ ও নির্ভরযোগ্য রেল যোগাযোগ নিশ্চিত হলে পর্যটন শিল্পের বিকাশে নতুন গতি আসবে।
আলোচনা জনস্বার্থের দাবিগুলো নিয়েই
প্রধানমন্ত্রীর সামনে জেলার উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট চারটি দাবি উপস্থাপনের পর থেকেই মৌলভীবাজারে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব বিষয় নিয়ে মতামত ও বিশ্লেষণ করছেন অনেকে। স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, উচ্চশিক্ষা ও পর্যটন—এই চারটি ক্ষেত্রের দাবিই জেলার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন বলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। এখন জেলার মানুষের প্রত্যাশা, মৌলভীবাজারের উন্নয়ন ও জনস্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যসেবায় মেডিকেল কলেজ, যোগাযোগে বিমানবন্দর ও আন্তনগর ট্রেন এবং উচ্চশিক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মতো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মৌলভীবাজারের আর্থসামাজিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের আশায় এখন অপেক্ষা জেলার মানুষের।
Leave Your Comments