প্রকাশিত :  ০৬:৪২
১৫ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৫২
১৫ জুন ২০২৬

জোড়া গোল করেও উদযাপন করেননি ইয়াসিন, পেছনে কী রহস্য

জোড়া গোল করেও উদযাপন করেননি ইয়াসিন, পেছনে কী রহস্য

গোলের পর সাধারণত উচ্ছ্বাসে ভাসেন ফুটবলাররা। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করেও উদযাপন করেননি সুইডেনের ইয়াসিন আয়ারি। তার এই নীরবতার পেছনে আছে গভীর পারিবারিক আবেগ।

বিশ্বকাপে অভিষেক। বিষয়টা যে কোনো খেলোয়াড়ের জন্যই বিশেষ কিছু। ফিফা সে উপলক্ষটাকে বিশেষ করে তুলতে বিশেষ ব্যাজেরও ব্যবস্থা করেছে এবারের বিশ্বকাপে।

তবে ইয়াসিন আয়ারির সে অভিষেকটা ছিল আরও ‘স্পেশাল’। কারণ এই ম্যাচটা যে ছিল তার বাবার দেশ তিউনিসিয়ার বিপক্ষে। তিনি এখানেই থামলেন না। সে ম্যাচকে আরও বিশেষ করে তুললেন সুইডেনের নায়ক বনে গিয়ে।

তার বাবা আজ্জুজ আয়ারির জন্ম ও বেড়ে ওঠা তিউনিসিয়ায়। ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে চলে গিয়েছিলেন সুইডেনে। তার সে স্বপ্ন ভালোভাবে পূরণ হয়নি, পূরণ হলো অন্যভাবে।

সুইডেনে তার ছেলে ইয়াসিনের জন্ম। সেখানেই ফুটবলার হিসেবে বেড়ে ওঠেন তিনি। ইউরোপীয় ফুটবলে যখন আলো ছড়াচ্ছেন, তখন তিউনিসিয়া ইয়াসিনকে প্রস্তাব দিয়েছিল দেশটির হয়ে খেলার জন্য। ২০২২ বিশ্বকাপে তাদের হয়ে খেলার সুযোগ দিতে চেয়েছিল আফ্রিকান দেশটি। কিন্তু আয়ারি জন্মভূমি সুইডেনকেই বেছে নেন।

এই সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন তার বাবা আজ্জুজ আয়ারি। এই বছর মে মাসে সুইডিশ সংবাদমাধ্যম আফটনব্লাডেটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার ছেলে তিউনিসিয়ার হয়ে খেলতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি তাকে বললাম সুইডেনের হয়ে খেলতে। কারণ এই দেশটিই তাকে স্বাগত জানিয়েছে এবং গড়ে তুলেছে। এটা তার দায়িত্ব ছিল কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার।’

বাবার সঙ্গে কথা বলার পর আয়ারির কাছেও সিদ্ধান্তটি স্পষ্ট হয়ে যায়। আয়ারি বলেছেন, ‘আমি সুইডেনে জন্মেছি, নিজেকে সুইডিশ মনে করি। সুইডেনই সেই দেশ যাকে আমি প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।’

তিউনিসিয়ার কোচ সাবরি লামুশিও আয়ারিকে চেনেন। তার ভাইকেও চেনেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি তাকে এবং তার ভাইকে চিনি। সে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমি সেটাকে অনেক সম্মান করি। সে খুব ভালো খেলোয়াড়। ম্যাচের পরে তার জন্য শুভকামনা, তবে সেটা ম্যাচের পরে।’

তবে লামুশির সে শুভকামনা বোধ হয় ম্যাচের আগেই কাজে লেগে গেছে ইয়াসিনের জন্য। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে সুইডিশরা এগিয়ে যায়। সেটা এই ইয়াসিনের দারুণ এক গোলে। বাবার দেশের বিপক্ষে গোল বলে কথা, তাই দুই হাত তুলে উদযাপনে বাধ টানেন তিনি। এরপর স্রষ্টাকে ধন্যবাদ জানান সিজদায় লুটিয়ে পড়ে।

সুইডিশদের আরও এক গোলে অবদান আছে ইয়াসিনের। তার বাড়ানো বলে পা ছুঁইয়েই সভেনবার্গের পা থেকে আসা সুইডেনের চতুর্থ গোলে অ্যাসিস্ট করেন ইসাক। 

ম্যাচের শেষটাও হয়েছে তার গোলে, বক্সের বাইরে থেকে তার করা আগুনে এক শটে বল গিয়ে আছড়ে পড়ে জালে। এবার আর উদযাপনে বাধ নেই। কেন থাকবে? এমন এক মঞ্চে এভাবে পারফর্ম করলে আবেগকে কতক্ষণ আর বাধ দিয়ে রাখা যায়?

বাবার দেশের বিপক্ষে অভিষেক, সেটাও বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে। সে ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন, করিয়েছেনও পরোক্ষভাবে। মঞ্চটাকে বুঝি এর চেয়ে ভালোভাবে ‘স্পেশাল’ বানাতে পারতে না ইয়াসিন! 


Leave Your Comments




খেলাধুলা এর আরও খবর