প্রকাশিত : ১৯:৪৭
১১ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৫৬
১১ জুন ২০২৬
একটি বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি একটি জাতির স্বপ্ন, অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যতের রূপরেখা। রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক দর্শন, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং উন্নয়নের অগ্রাধিকারের প্রতিফলন ঘটে বাজেটের প্রতিটি পাতায়। সেই বিবেচনায় ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট দেশের সাধারণ মানুষের কাছে আশার বার্তা নিয়ে এসেছে বলে মনে হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তার বাস্তবতা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। এই প্রেক্ষাপটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, কৃষি খাতে প্রণোদনা বৃদ্ধি, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং কর্মসংস্থানমুখী বিভিন্ন উদ্যোগ বাজেটকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। রাষ্ট্রের উন্নয়নের প্রকৃত অর্থ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সেই উন্নয়নের সুফল সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছেও পৌঁছে যায়।
তবে বাজেটের সাফল্য শুধু ঘোষণায় নয়, বাস্তবায়নেও নিহিত। কাগজে-কলমে যতই সুন্দর পরিকল্পনা থাকুক না কেন, তা যদি দক্ষ প্রশাসন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং কার্যকর তদারকির মাধ্যমে বাস্তবরূপ না পায়, তাহলে জনগণের প্রত্যাশা অপূর্ণই থেকে যায়। ইতিহাস বারবার আমাদের শিখিয়েছে, উন্নয়নের জন্য শুধু অর্থ বরাদ্দই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
এই প্রসঙ্গে দেশের রাজনীতিতে নেতৃত্বের প্রশ্নটি সামনে আসে। অনেক নাগরিকের বিশ্বাস, এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যিনি উন্নয়নকে দলীয় সীমারেখার বাইরে নিয়ে গিয়ে জাতীয় অগ্রগতির একটি সর্বজনীন কর্মসূচিতে পরিণত করতে পারেন। সেই আলোচনায় প্রায়ই উঠে আসে তারেক রহমানের নাম। তাঁর সমর্থকদের মতে, তরুণ সমাজের কর্মসংস্থান, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির বিষয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে যে চিন্তা ও পরিকল্পনার কথা বলে আসছেন, তা বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি নতুন গতি পেতে পারে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার মানুষ। এ দেশের কৃষক, শ্রমিক, উদ্যোক্তা, শিক্ষক, প্রবাসী এবং তরুণ প্রজন্ম প্রতিদিন নিজেদের শ্রম ও মেধা দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন। রাষ্ট্রের কাজ হলো সেই সম্ভাবনাকে আরও বিকশিত করার সুযোগ সৃষ্টি করা। একটি জনবান্ধব বাজেট সেই পথকে সহজতর করতে পারে, যদি এর বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষতা নিশ্চিত করা যায়।
আজকের বিশ্বে উন্নয়নের মানদণ্ড শুধু অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়। উন্নয়নের অর্থ হলো মানুষের জীবনে নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা। যে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের জন্য এই মৌলিক নিশ্চয়তাগুলো প্রদান করতে পারে, সেই রাষ্ট্রই প্রকৃত অর্থে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
বাংলাদেশ এখন সম্ভাবনার এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। জনসংখ্যাগত সুবিধা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ এবং উদ্যমী তরুণ জনগোষ্ঠী—সব মিলিয়ে দেশের সামনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হলে প্রয়োজন এমন নেতৃত্ব, যিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন এবং জনগণের আস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন।
জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি অর্জন করতে হয় কাজের মাধ্যমে। মানুষ শেষ পর্যন্ত তাদেরই মনে রাখে, যারা তাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দেয়। তাই আজকের প্রত্যাশা একটাই—বাজেটের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ পাক, উন্নয়নের সুফল সবার ঘরে পৌঁছাক এবং বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ, আরও মানবিক ও আরও সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক।
আমাদের প্রত্যাশা, আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে এমন এক বাংলাদেশ, যেখানে উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক সূচকে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা প্রতিফলিত হবে কৃষকের হাসিতে, শ্রমিকের নিরাপত্তায়, শিক্ষার্থীর স্বপ্নে এবং সাধারণ মানুষের স্বস্তির নিঃশ্বাসে। সেই বাংলাদেশ গড়ার অভিযাত্রায় জনকল্যাণ, সুশাসন এবং দূরদর্শী নেতৃত্বই হতে পারে সবচেয়ে বড় শক্তি।