প্রকাশিত : ০৬:০৪
০৭ জুন ২০২৬
আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়কে ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সেখানে জড়ো হওয়া সাধারণ মানুষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান। কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে কঠোরতম শাস্তির কথাও বলেন।
আজ রোববার (৭ জুন) সকালে মহানগর দায়রা জজ কোর্টে রায় শুনতে আসা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এসব জানা যায়। তাদের ভাষ্য, এমন নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। এ সময় তারা আসামি সোহেলকে বাঘের খাঁচায় ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান।
মিরপুর থেকে আসা মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, সোহেলের ফাঁসি হওয়া উচিত। আর রায় ঘোষণার পরপরই আজকে যেন রায় কার্যকর করা হয়। এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন হোক, কেউ যেন আর এমন বর্বর কাজ না করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আপনারা সোহেলকে চিড়িয়াখানার বাঘের খাঁচায় ছেড়ে দিন। এতে করে আপনাদেরও লাভ হবে। ওকে যখন বাঘ ছিঁড়ে-কামড়ে কামড়ে খাবে দেখতে টাকা দিয়ে যাবে। এতে সরকারের লাখ লাখ টাকা আয় হবে।’
বেসরকারি চাকরিজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, জালিম সোহেলকে এই কোর্ট প্রাঙ্গণের বট গাছে ঝুলিয়ে পাথর নিক্ষেপ করে জনসম্মুখে তাকে হত্যা করা হোক। তাকে হত্যার এই চিত্র যেন বিশ্ববাসী দেখুক, যাতে করে আর এমন নির্মম ও পৈশাচিক কাজ না করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আমরা চাই রাষ্ট্র এমন পদক্ষেপ নেক, যাতে করে আর কোনো মায়ের কোল খালি না হয়। আমি চাই এক সপ্তাহের মধ্যে যেন হত্যাকারীদের রায় কার্যকর করা হোক।
কোর্ট প্রাঙ্গণে রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় শুনতে আসা শামশাদ বেগম নামে এক নারী বলেন, এমন ফুটফুটে একটি শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা গোটা দেশবাসীর হৃদয় নাড়া দিয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মাথাবিহীন মরদেহটি দেখে আমিও স্থির থাকতে পারিনি।
তিনি আরও বলেন, বীভৎস এ হত্যাকাণ্ডের জন্য অবশ্যই আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হোক। একইসঙ্গে দ্রুততম সময়ে কার্যকর করতে হবে। যেন এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আর কোনো নরপশু এমন সাহস না করেন।
এর আগে এদিন সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচিত মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
এদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে একই মামলার অপর আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। রায় ঘোষণার আগে দুজনই হাজতখানায় রয়েছেন। আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত।
এর আগে, ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত। মাত্র চার কার্যদিবসে মামলাটির বিচারকাজ সম্পন্ন হয়।
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা গেছে।
গত ১ জুন সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ২ জুন শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। ওই দিন ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করেন আদালত। পরে ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন আসামিরা।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। এ সময় তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন স্বপ্না।
ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বড় বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান।
পরবর্তীকালে জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে কল পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ২০ মে পল্লবী থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা।