প্রকাশিত : ০৯:১৮
০২ জুন ২০২৬
এডিশ মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় এবার মৌসুম শুরুর আগেই দেশজুড়ে ব্যাপক ও আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় নাগালের মধ্যে রাখতে বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ ফি (ভিজিট) সম্পূর্ণ মওকুফ করার নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই যেন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে, এমন ওষুধ প্রয়োগ না করার বিষয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও গাইডলাইন বিষয়ক’ এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, প্যাথলজি ল্যাব, বেসরকারি হাসপাতাল ও সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে নিয়ে ডেঙ্গু মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নির্ধারণে এই সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় ডেঙ্গু রোগীদের শয্যা ও চিকিৎসা সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। সভা শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গুর সময়ে চিকিৎসা সংকট এড়াতে দেশের সব বেসরকারি হাসপাতালে মোট বেডের ১০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে ফাঁকা রাখতে হবে। এছাড়া ডেঙ্গু পরীক্ষার খরচ সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে আনতে টেস্ট ফি-তে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিতে হবে। বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা কোনো কনসালটেন্সি বা পরামর্শ ফি নিতে পারবেন না। রোগীরা শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং খাবারের খরচ বহন করবেন।
চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও ওষুধের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রোগাক্রান্তদের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়মের বাইরে অন্য কোনো ওষুধ প্রয়োগ করা যাবে না। আন্তর্জাতিকভাবে ডেঙ্গুর কোনো ভ্যাকসিন এখনো সার্বজনীন বা চূড়ান্ত স্বীকৃতি পায়নি। এই কারণে বাংলাদেশে এখনই কোনো ধরনের ডেঙ্গু ভ্যাকসিন কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা সরকারের নেই।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার এবার আগেভাগেই মশা নিধন এবং ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নড়েচড়ে বসেছে। এই নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও চিকিৎসা ব্যয় দুটোই উল্লেখযোগ্য হারে কমবে।