প্রকাশিত :  ১৫:২৪
০১ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:৫০
০১ জুন ২০২৬

আস্থার সবুজ সংকেত, এবার কি ঘুরে দাঁড়াবে পুঁজিবাজার?

আস্থার সবুজ সংকেত, এবার কি ঘুরে দাঁড়াবে পুঁজিবাজার?

✍️ রেজুয়ান আহম্মেদ

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বহুদিন ধরেই এক ধরনের প্রত্যাশা ও হতাশার দোলাচলের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন এমন একটি বার্তার জন্য, যা তাঁদের আবারও বাজারের প্রতি আস্থাশীল করে তুলবে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চিত্র অন্তত সেই আশার একটি ক্ষীণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ আলো দেখিয়েছে।

সূচক বেড়েছে, লেনদেন বেড়েছে, বেড়েছে দাম বেড়েছে এমন কোম্পানির সংখ্যাও। সংখ্যাগুলো হয়তো এক দিনের গল্প বলছে, কিন্তু পুঁজিবাজারে অনেক সময় ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা ঠিক এভাবেই ঘটে—ধীরে, নীরবে এবং ধাপে ধাপে।

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের প্রায় ৩৭ পয়েন্ট উত্থান নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর চেয়েও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হলো, এই উত্থানের সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। কারণ বাজারের প্রকৃত শক্তি কেবল সূচকের সংখ্যায় নয়, বরং বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে প্রতিফলিত হয়। যখন ক্রেতারা বাজারে ফিরে আসেন, তখনই লেনদেন বাড়ে; আর লেনদেন বাড়লে বাজারে প্রাণ ফিরে আসে।

পুঁজিবাজার মূলত আস্থার বাজার। এখানে অর্থের পাশাপাশি কাজ করে প্রত্যাশা, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বিশ্বাস এবং অর্থনীতির প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। সাম্প্রতিক সময়ে নানা কারণে সেই আস্থায় কিছুটা চিড় ধরেছিল। ফলে অনেক বিনিয়োগকারী পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু সর্বশেষ দিনের লেনদেন ও সূচকের গতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাজারকে নতুন করে মূল্যায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, এ দিনের ইতিবাচকতা কোনো একটি বা দুটি কোম্পানির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্যাংক, প্রকৌশল, টেক্সটাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ ও খাদ্য খাতসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতে ক্রেতাদের উপস্থিতি দেখা গেছে। অর্থাৎ বাজারের উন্নতির ভিত্তি ছিল তুলনামূলক বিস্তৃত। একটি সুস্থ বাজারের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

বিশ্বের সফল পুঁজিবাজারগুলোর ইতিহাস বলছে, টেকসই উত্থান কখনো রাতারাতি আসে না। আস্থা ধীরে ধীরে তৈরি হয়, অংশগ্রহণ বাড়ে, ভালো কোম্পানির প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায় এবং এরপর বাজার দীর্ঘমেয়াদি গতিপথ খুঁজে নেয়। বাংলাদেশও সেই পথেই এগোতে পারে, যদি ইতিবাচক ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

তবে আশাবাদের পাশাপাশি বাস্তবতাও মনে রাখতে হবে। পুঁজিবাজারে ওঠানামা স্বাভাবিক। এক দিনের উত্থানকে স্থায়ী পরিবর্তনের নিশ্চয়তা বলা যাবে না। কিন্তু এটিও সত্য, দীর্ঘ অন্ধকারের পর আলো দেখা দিলে তাকে উপেক্ষা করা যায় না। বরং সেই আলোর উৎস কতটা শক্তিশালী হচ্ছে, সেটিই পর্যবেক্ষণের বিষয়।

আজকের বাজার বিনিয়োগকারীদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রেখে গেছে—আস্থা পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। বরং অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে তা দ্রুতই ফিরে আসতে পারে। সূচকের উত্থান, লেনদেনের সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন খাতে অর্থপ্রবাহের বিস্তার সেই সম্ভাবনার কথাই বলছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন নতুন প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশায় এগিয়ে চলেছে। সেই যাত্রায় একটি শক্তিশালী ও গতিশীল পুঁজিবাজার হতে পারে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাই প্রয়োজন স্থিতিশীল নীতি, স্বচ্ছতা, সুশাসন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ। এই উপাদানগুলো নিশ্চিত করা গেলে সাম্প্রতিক সবুজ সংকেত হয়তো কেবল একটি দিনের ঘটনা হয়ে থাকবে না; বরং সেটিই হতে পারে পুঁজিবাজারের নতুন আত্মবিশ্বাসের সূচনা।

আশার কথা হলো, বাজার আবার কথা বলতে শুরু করেছে। এখন প্রয়োজন সেই কথাকে ধারাবাহিক ইতিবাচক কর্মপ্রবাহে রূপ দেওয়ার। কারণ আস্থা ফিরে এলে শুধু সূচকই বাড়ে না, বাড়ে অর্থনীতির গতি, বিনিয়োগের সাহস এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাও।


Leave Your Comments




পুঁজি বাজার এর আরও খবর