প্রকাশিত : ১৭:৫৬
২৫ মে ২০২৬
সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া ও নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন থামছেই না। প্রশাসনের অভিযান, জরিমানা ও পেট্রোলিংয়ের পরও সংঘবদ্ধ প্রভাবশালী চক্র প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন ও পাচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৪ মে) শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে কিতাব আলী নামের এক ব্যক্তিকে “বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০” এর অধীনে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
এর ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৫ মে) ভোর ৬টা থেকে সিন্দুরখান ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে পেট্রোলিং চালানো হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভূনবীর, সাতগাঁও, সিন্দুরখান ও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া থেকে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন এলাকায় পাচার করছে। এসব কাজে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।
অবৈধ বালুবাহী ট্রাকের কারণে অতীতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ভূনবীর ইউনিয়নে পাহাড়ি ছড়া থেকে উত্তোলিত বালু বহনকারী একটি ট্রাকের ধাক্কায় এক বৃদ্ধ ও এক শিশুকন্যার মৃত্যু হয়। একইভাবে সিন্দুরখান ইউনিয়নের বাজার এলাকায় বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় এক শিক্ষার্থী নিহত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রশাসনের অভিযান চললেও অধিকাংশ সময় ট্রাকচালক, হেলপার বা শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে মূল হোতারা থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে। কিছুদিন অভিযান বন্ধ থাকলেই আবারও পুরোদমে শুরু হয় বালু উত্তোলন।
এদিকে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের দি হেলদি চয়েজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের পূর্ব পাশের জাগছড়া থেকেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্র সেখানে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে।
কয়েক মাস আগে দৈনিক কালের কণ্ঠ–এর মৌলভীবাজার প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলাম তাঁর এক ফেসবুক পোস্টে অবৈধ বালু উত্তোলনের তদবিরে এক প্রভাবশালী সাংবাদিকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে এলাকাজুড়ে আলোচনা রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কেবল অভিযান ও জরিমানায় নয়, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি ছড়া ও পরিবেশ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।