নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

প্রকাশিত :  ১৯:১৬
২৪ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ২০:২০
২৪ মে ২০২৬

ইরান আলোচনা থেকে ইসরায়েলকে প্রায় বাদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান আলোচনা থেকে ইসরায়েলকে প্রায় বাদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান আলোচনায় ইসরায়েলকে প্রায় পুরোপুরিভাবে বাইরে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির দুই প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া বক্তব্যে তারা এ তথ্য জানান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগের আলোচনাগুলোতে ইসরায়েল মোটেও যুক্ত ছিল না। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনার অগ্রগতির বিষয়টি তারা আঞ্চলিক কূটনৈতিক যোগাযোগ ও নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে জানতে পারে।

সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রতিবেদনে তাদের নাম প্রকাশ করতে চাননি। নিউইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরায়েল লিখেছে, যুদ্ধ শুরুর আগে ট্রাম্পের সঙ্গে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিবিড় যোগাযোগ ছিল। তারা ইরানের শাসন ব্যবস্থা বদলের আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।

কিন্তু দুই নেতার সম্পর্কের বর্তমান পরিবর্তনকে নিউইয়র্ক টাইমস উড়োজাহাজের ‘ককপিট (পাইলটের আসন) থেকে ইকোনমি ক্লাসে (পেছনের সারি) পাঠিয়ে দেওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছে। যা ইসরায়েলের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ পরিণতি বয়ে আনতে পারে।

এদিকে আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক সংকটের গুঞ্জনকে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন নেতানিয়াহু। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখনো অত্যন্ত সুদৃঢ়। 

নেতানিয়াহুর সক্ষমতা নিয়ে সংশয়

পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে আলজাজিরার সংবাদদাতা নিদা ইব্রাহিম বলছেন, আসন্ন চুক্তিতে ইসরায়েলের লক্ষ্য বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর সক্ষমতা নিয়ে দেশটির ভেতরেই গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সম্ভাব্য চুক্তির খসড়াটি দেখেছেন। কিন্তু সন্তুষ্ট হতে পারেননি। কারণ, ইরান থেকে উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া এবং দেশটির পরমাণু প্রকল্পকে চিরতরে বন্ধ করার মতো ইসরায়েলি স্বার্থ ও উদ্বেগের জায়গাগুলো খসড়ায় গুরুত্ব পায়নি।

নিদা ইব্রাহিমের মতে, নেতানিয়াহু তাঁর কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে মুখ না খোলার নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ, সংবেদনশীল সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ‘ডিলিংসের’ ক্ষেত্রে তাঁকে বিচক্ষণতার সঙ্গে পা ফেলতে হচ্ছে। ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন আসন্ন। আর নেতানিয়াহু গুরুত্বপূর্ণ সেই নির্বাচনের আগে জনগণকে ইরান যুদ্ধে বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। চুক্তিতে ইসরায়েলি স্বার্থ রক্ষা না হলে সেটি নেতানিয়াহুর জন্য বড় পরাজয় হিসেবে গণ্য হবে।

ইসরায়েলের গণমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেল আবিবের সামরিক কর্মকর্তারা লেবানন নিয়েও উদ্বেগে আছেন। কারণ, সম্ভাব্য চুক্তির কারণে লেবানন যুদ্ধের অবসান ঘটার সম্ভাবনা দেখছেন তারা।

সম্ভাব্য চুক্তিতে সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত আছে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। চ্যানেল-১২ এর সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এখনই পিছু হটার কোনো পরিকল্পনা নেই। কিন্তু শঙ্কা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য চুক্তির কারণে লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ক্ষমতা সীমিত হয়ে যেতে পারে।



Leave Your Comments




আন্তর্জাতিক এর আরও খবর