প্রকাশিত :  ১৩:০০
২২ মে ২০২৬

ইসরাইলকে রক্ষা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ সুরক্ষায় টান

ইসরাইলকে রক্ষা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ সুরক্ষায় টান

ইহুদিবাদী ইসরাইলকে ইরানি হামলা থেকে রক্ষা করতে গিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের নিজস্ব বাহিনীর চেয়েও বেশি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাকবচ ব্যবহার করেছে। 

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই (এমইই) জানিয়েছে, মিত্রদেশকে রক্ষা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পড়া এই বিপুল চাপের কারণে বর্তমানে মার্কিন আকাশসুরক্ষা মজুদে মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের চরম উত্তেজনার সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য মিত্ররা ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের অনুরোধ জানালে মার্কিন প্রশাসন তা প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য হয়। বিপরীতে, ইসরাইল অবশ্য তাদের ঘনিষ্ঠ আরব অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাতকে রক্ষায় আয়রন ডোম ব্যাটারি ও সামরিক কর্মী পাঠিয়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলের সুরক্ষায় মার্কিন বাহিনী দুই শতাধিক ‘টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স’ (থাড) ইন্টারসেপ্টর উৎক্ষেপণ করেছে, যা পেন্টাগনের মোট মজুদের প্রায় অর্ধেক। এর বাইরেও পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করা যুদ্ধজাহাজ থেকে আরও শতাধিক স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৩ (এসএম-৩) এবং স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৬ (এসএম-৬) ইন্টারসেপ্টর ছুড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর বিপরীতে, ইসরাইল নিজে ১০০টিরও কম অ্যারো ইন্টারসেপ্টর এবং প্রায় ৯০টি ডেভিডস স্লিং ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে। ডেভিডস স্লিং মূলত ইয়েমেনের হুথি এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে ব্যবহৃত হয়েছে, যাদের কাছে ইরানের মতো এত উন্নত প্রযুক্তি বা ড্রোন নেই।

ওয়াশিংটন পোস্ট এই পরিস্থিতিকে দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘অসম বা একতরফা গতিশীলতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। থিংক ট্যাংক কুইন্সি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পার্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ বিষয়টিকে ‘স্তব্ধ করার মতো’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই পরিসংখ্যানগুলো দেখার পর অনেকেই যদি ইরান যুদ্ধকে ‘ইসরাইল প্রথম’ নীতি হিসেবে বিবেচনা করেন, তবে তা খুবই স্বাভাবিক। কারণ, ইসরাইল নিজে যতটা ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে, যুক্তরাষ্ট্র তার চেয়ে অনেক বেশি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ শেষ করেছে কেবল ইসরাইলকে বাঁচাতে।

বর্তমানে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ অবসানের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে ইরান যদি যুদ্ধ থামানোর শর্তগুলো মেনে না নেয়, তবে পুনরায় হামলা শুরু করা হবে। কিন্তু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে মাত্র ২০০টি থাড ইন্টারসেপ্টর অবশিষ্ট থাকায় ওয়াশিংটন নিজেই এখন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। সংঘাত শুরুর আগে থেকেই মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ যে শেষের দিকে ছিল, তা এখন আর গোপন কোনো বিষয় নয়।

চলমান এই লড়াইটি মূলত একটি প্রতিযোগিতায় রূপ নিয়েছিল—যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল চেষ্টা করছিল ইরানের ভেতরে থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎক্ষেপণ যানগুলো ধ্বংস করতে, আর ইরান চেষ্টা করছিল মার্কিন, ইসরাইলি ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ইন্টারসেপ্টরের মজুদ ফুরিয়ে যাওয়া পর্যন্ত টিকে থাকতে। নিউইয়র্ক টাইমসের গত সপ্তাহের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের যে পরিমাণ মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যান এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ছিল, তার প্রায় ৭০ শতাংশই এখনো অক্ষত রয়েছে।

এদিকে, যুদ্ধ যদি আবারও শুরু হয় তবে ইসরাইলের প্রতিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বড় ধরনের ধকল পোহাতে হতে পারে। কারণ, সম্প্রতি ইসরাইলি সামরিক বাহিনী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাটারি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, নতুন করে লড়াই শুরু হলে এই সামরিক ভারসাম্যহীনতা ও সুরক্ষার ঘাটতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করবে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই।



Leave Your Comments




আন্তর্জাতিক এর আরও খবর