প্রকাশিত :  ১৯:২২
২০ মে ২০২৬

পল্লবীতে নৃশংসভাবে শিশু হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানার দায় স্বীকার

পল্লবীতে নৃশংসভাবে শিশু হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানার দায় স্বীকার

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আদালতের আদেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আজ বুধবার আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে, সোহেল রানা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান তার জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন জানান। পরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে সোহেল রানা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন এবং আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

একই দিনে মামলার অন্য আসামি স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালত সূত্র জানায়, দুপুর সোয়া তিনটার দিকে কড়া নিরাপত্তায় সোহেল রানাকে হাজতখানা থেকে আদালতে তোলার সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত লোকজন তার প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পুলিশের তদন্ত ও আবেদন সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশুটি রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সে বাসা থেকে বের হওয়ার পর, স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে স্কুলে নেওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। সেখানে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। ফ্ল্যাটের ভেতরে ঢুকে একটি কক্ষে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ এবং অন্য একটি কক্ষে বালতির ভেতরে তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি দেখতে পান তারা।

পুলিশের আবেদনে বলা হয়েছে, মূলত মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয়েছিল। ঘটনার পরপরই ওই ফ্ল্যাট থেকে স্বপ্না আক্তারকে আটক করা সম্ভব হলেও, অন্য একটি কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সোহেল রানা, স্বপ্না আক্তার এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও একজনকে আসামি করে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, শিশুটিকে যখন ওই ফ্ল্যাটে নেওয়া হয়েছিল, তখন সেখানে তৃতীয় একজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন, যিনি স্বজনরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার আগেই সেখান থেকে চলে যান।



Leave Your Comments




জাতীয় এর আরও খবর