প্রকাশিত : ০৯:১৭
২০ মে ২০২৬
সংগ্রাম দত্ত: নিঝুম রাত। সবাই যখন ঘুমের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই শ্রীমঙ্গলের একটি চারতলা ভবনের বাসায় দেখা মিলল অদ্ভুত এক অতিথির। প্রথমে কেউ বুঝতে পারেননি প্রাণীটি কী। পরে ভালোভাবে দেখে চমকে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা— সেটি ছিল বিরল প্রজাতির একটি লজ্জাবতী বানর।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও চৌমুহনা এলাকার বাসিন্দা সফেদ মিয়ার ভবন থেকে প্রাণীটিকে উদ্ধার করা হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসার ভেতরে হঠাৎ অস্বাভাবিক নড়াচড়া টের পান তারা। কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর চোখে পড়ে বড় বড় চোখের শান্ত স্বভাবের একটি প্রাণী। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেটি একটি লজ্জাবতী বানর।
ঘটনার বিষয়টি স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী কাজী গোলাম কিবরিয়া জুয়েলকে জানানো হলে তিনি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে সংগঠনটির পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সতর্কতার সঙ্গে প্রাণীটিকে উদ্ধার করেন।
উদ্ধারকারীদের ধারণা, রাতের আঁধারে ভবনের সেনেটারি পাইপ বেয়ে উপরে উঠে বাসার ভেতরে ঢুকে পড়ে প্রাণীটি। পরে সেটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা জানান, লজ্জাবতী বানর অত্যন্ত শান্ত ও নিশাচর প্রাণী। বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস এবং খাদ্য সংকটের কারণে এসব প্রাণী এখন মাঝেমধ্যে লোকালয়ে চলে আসছে। সাধারণত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হবিগঞ্জের সাতছড়ি ও রেমা-কেলেঙ্গা বনাঞ্চলে এদের বিচরণ দেখা যায়।
প্রকৃতিনির্ভর পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে এমন বিরল প্রাণীর উপস্থিতি যেমন কৌতূহল তৈরি করেছে, তেমনি বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আবার সামনে এনে দিয়েছে।