প্রকাশিত : ০৯:০৭
১২ মে ২০২৬
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরাইলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ও ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। সোমবার (১১ মে) এক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ‘নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ’ নিয়ে এ ঐকমত্যে পৌঁছান।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার কারণে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর ইইউর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বহুল প্রতিক্ষীত ছিল। এতদিন ইইউভুক্ত হাঙ্গেরির সদ্যবিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এ উদ্যোগ আটকে রেখেছিলেন। দেশটিতে ক্ষমতার পালাবদলে এখন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন পিটার মাজিয়ার। এখন ইইউর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আগের সেই জটিলতা কাটছে।
তিনজন ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী এবং বসতি স্থাপনকারী চারটি সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ইইউর। তাদের নাম–পরিচয় এখনো প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।
নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ঐকমত্যের পর ইইউর পররাষ্ট্রনীতি–বিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে বলেন, ‘অচলাবস্থা কাটিয়ে (নিষেধাজ্ঞা) বাস্তবায়নের এটাই উপযুক্ত সময়।’
ঐকমত্যের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো। তিনি বলেন, ‘পশ্চিম তীরে চরমপন্থা ও সহিংস উপনিবেশ স্থাপন প্রক্রিয়ায় সমর্থনকারী প্রধান ইসরাইলি সংগঠনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে ইইউ।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেখেন, ‘অত্যন্ত গুরুতর ও অসহনীয় এসব কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।’
অবশ্য অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের বিষয়ে ইইউর এ উদ্যোগের নিন্দা জানিয়েছেন ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ইইউ কোনোরকমের ভিত্তি ছাড়াই শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে খেয়ালখুশি মতো এবং রাজনৈতিকভাবে ইসরায়েলি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।‘
ইসরাইলের কট্টরপন্থি নেতা ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির ইইউকে ‘ইহুদি-বিদ্বেষী’ বলে কড়া সমালোচনা করেছেন।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো জানান, ইইউর নেতারা হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে একমত হয়েছেন।