প্রকাশিত : ১৬:৫০
১০ মে ২০২৬
✍️ রেজুয়ান আহম্মেদ
মা-দিবস আসে, আর বুক চিরে এক দীর্ঘশ্বাস নামে। তোমার ওই শূন্য ঘরটা এখন এক জমাটবদ্ধ নিস্তব্ধতার পাহাড়। আগের মতো মমতাময়ী স্বরে কেউ আর শুধায় না— 'পেটে কিছু দিয়েছিস?' তোমার সেই মায়াভরা ডাকটা আজ মহাকালের অতল গহ্বরে হারিয়ে গেছে।
আলমারিতে রাখা তোমার সেই পুরোনো শাড়িটার ভাঁজে আজও লেগে আছে তোমার চিরচেনা ঘ্রাণ। আমি অবোধের মতো সেই ঘ্রাণে মুখ গুঁজলে আজও স্মৃতির নীল পদ্মগুলো ফুটে ওঠে। মধ্যরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে অবচেতন মনে হাতটা পাশে হাতড়ে বেড়াই, কিন্তু সেখানে কেবল হিমশীতল শূন্যতা। মা, তুমি নেই বলেই আমার রাতগুলো আজ বড্ড নিঃস্ব, বড় একা।
মা, দৃশ্যত তুমি নেই ঠিকই, কিন্তু আমার অস্তিত্বের প্রতিটি কণিকায় তোমার বাস। চোখের নোনা জলের আড়ালে তুমি বেঁচে আছো প্রতিক্ষণে। হাজারো মানুষের এই কোলাহলে আমি নিজেকে বড্ড নিঃসঙ্গ আবিষ্কার করি; তোমাকে ছাড়া এ জীবন যেন এক বিস্তীর্ণ ধূসর মরুভূমি। এক মুহূর্তের জন্য যদি ফিরে আসতে, মা! আমার অবাধ্য চুলের ওপর ভরসার হাত রেখে যদি বলতে— 'ভয় পাস না, পাগল, আমি তো আছি।' এই বিশেষ দিনটিতে আমার কান্নাগুলো ঝরে পড়ে না, বরং 'মা' ডাকটা একটা ভারী পাথর হয়ে বুকের ভেতর আটকে থাকে।
যখন যন্ত্রণার ভার সইতে পারি না, তখন নির্নিমেষ চেয়ে থাকি ওই অসীম আকাশের পানে। মনে হয়, আকাশের উজ্জ্বলতম ওই ধ্রুবতারাটি হয়েই হয়তো তুমি আমায় দেখছ। তোমার দোয়াটুকু পাথেয় না হলে এই কণ্টকাকীর্ণ পৃথিবীতে পথচলা বড় দায়। তোমার কবরের পাশে যখন বসি, চারপাশ নিঝুম হয়ে আসে। কেবল মনে মনে শুধাই— 'কেন এত তাড়াতাড়ি চলে গেলে, মা?' এই পৃথিবীর সমস্ত জাগতিক সুখ আজ আমার কাছে বড্ড ম্লান, বড্ড অর্থহীন।
লোকে বলে, সময়ের স্রোতে নাকি সব ক্ষত শুকিয়ে যায়। কিন্তু জন্মদুঃখী মায়ের শূন্যতা কি কোনোদিন পূরণ হয়? আজও দরজার পাশে থমকে দাঁড়াই, মনে হয় এই বুঝি তুমি রান্নাঘর থেকে উচ্চস্বরে ডাক দিয়ে বলবে— 'আয়, খেয়ে নে।'
মা, তুমি আজ মাটির ওই শীতল প্রশান্তিতে চিরনিদ্রায় শায়িত। আর আমি বেঁচে আছি কেবল তোমার স্মৃতির ধূপ জ্বালিয়ে। মা-দিবস এলে চোখের কোণ বারবার ভিজে ওঠে; বুঝতে পারি, তুমিহীন আমার পৃথিবীটা কতটা অন্ধকার। পরপারে স্রষ্টা যেন তোমাকে জান্নাতের আলোয় সিক্ত করেন। আমি প্রতীক্ষায় রইলাম, একদিন আবারও তোমার সেই চিরশীতল ছায়াতলে ফিরে আসব।
ততদিন তোমার স্মৃতিটুকু আমার হৃদয়ের মণিকোঠায় অক্ষয় হয়ে থাকুক। মা, তুমি হারিয়ে গিয়েও আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ ধ্রুবতারা।