সংগ্রাম দত্ত: প্রকৃতিকে ভালোবাসা অনেকেই প্রকাশ করেন কথায়, কেউবা ছবিতে। তবে শ্রীমঙ্গলের শিক্ষক ও আলোকচিত্রপ্রেমী তারেক হাসান সেই ভালোবাসাকে রূপ দিয়েছেন বাস্তব উদ্যোগে। ক্যামেরার ফ্রেমে প্রকৃতির সৌন্দর্য তুলে ধরার পাশাপাশি নিজের হাতে গাছ লাগিয়ে তিনি সবুজে সাজিয়ে তুলছেন পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলকে।
শ্রীমঙ্গল কলেজ রোডের কবরস্থানের পাশে তার লাগানো দুর্লভ ‘ক্যাসিয়া জাভানিকা’ গাছটি এখন ফুলে ফুলে সুশোভিত। গোলাপি আভায় মোড়া গাছটির মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ছে প্রতিনিয়ত। কেউ গাড়ি থামিয়ে ছবি তুলছেন, কেউ আবার কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করছেন প্রকৃতির এই অনিন্দ্য রূপ।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগেও সড়কের পাশের স্থানটি ছিল একেবারেই সাধারণ। কিন্তু তারেক হাসানের পরিচর্যায় গাছটি আজ যেন পুরো এলাকাকে নতুন সৌন্দর্যে ভরিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে ফুল ফোটার মৌসুমে জায়গাটি ছোট্ট এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকেন্দ্রে পরিণত হয়।
তারেক হাসান মনে করেন, একটি গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, মানুষের মনেও ছড়িয়ে দেয় প্রশান্তি ও সৌন্দর্যের অনুভূতি। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজ উদ্যোগে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে শোভাবর্ধনকারী, ফলজ ও বনজ নানা প্রজাতির গাছ।
বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন নগরী ও চায়ের রাজ্যখ্যাত শ্রীমঙ্গলে প্রতিদিনই দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে ফুটে থাকা এমন দৃষ্টিনন্দন গাছপালা পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে নতুনভাবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দর্শনার্থীরাও এই সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন।
অনেকেই বলছেন, পরিকল্পিতভাবে এমন বৃক্ষরোপণ অব্যাহত থাকলে শ্রীমঙ্গলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষা ও নগর সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকৃতিপ্রেমী শিক্ষক তারেক হাসানের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শুধু একটি গাছ লাগানোর গল্প নয়; এটি মানুষ ও প্রকৃতির বন্ধনের এক নীরব বার্তা। যেখানে সৌন্দর্য, পরিবেশ সচেতনতা ও মানবিক ভালোবাসা একসঙ্গে ফুটে উঠেছে ফুলে মোড়া একটি ‘ক্যাসিয়া জাভানিকা’ গাছের রঙিন ছায়ায়।
Leave Your Comments