প্রকাশিত : ০৭:৪৩
০৮ মে ২০২৬
ভারতের হায়দরাবাদের মালকাজগিরি পুলিশ কমিশনার ভি সুমতি নারীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিনে বুঝতে মাঝরাতে সাধারণ নারীর ছদ্মবেশে রাস্তায় নেমেছিলেন । কিন্তু মাত্র তিন ঘণ্টার সেই অভিযানে যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে, তা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বাইরে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো পুলিশি নিরাপত্তা বা পরিচয় ছাড়াই রাত ১২টা ৩০ থেকে ভোর ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত একটি বাসস্ট্যান্ডে একা দাঁড়িয়ে ছিলেন এই নারী আইপিএস কর্মকর্তা।
উদ্দেশ্য ছিল, গভীর রাতে একজন সাধারণ নারী হিসেবে শহরের রাস্তায় কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তা নিজ চোখে দেখা।
এই সময়ের মধ্যেই প্রায় ৪০ জন পুরুষ তার কাছে এগিয়ে আসেন। তাদের অনেকেই ছিলেন তরুণ, কেউ ছাত্র, কেউ চাকরিজীবী।
অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মদ্যপ ও গাঁজাসেবনকারীও ছিলেন। কেউ কথা বলার চেষ্টা করেছেন, আবার কেউ সরাসরি কুপ্রস্তাব দিয়েছেন। তবে তাদের কেউই বুঝতে পারেননি যে, তারা একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলছেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, শুধু অভিযোগ বা প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর না করে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার লক্ষ্যেই এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে অভিযানে জড়িত কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়।
তবে তাৎক্ষণিক মামলা না করে তাদের কাউন্সেলিংয়ের জন্য ডেকে পাঠানো হয় এবং জনসমক্ষে নারীদের প্রতি আচরণ নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
এই পদক্ষেপ স্থানীয় বাসিন্দাদের, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, নারী নিরাপত্তা নিয়ে বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে পুলিশের এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
তবে সুমতির জন্য এমন অভিযান নতুন কিছু নয়। কর্মজীবনের শুরুর দিকে ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ হিসেবে কাজিপেট রেলস্টেশন এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে নারীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাইয়ে একই ধরনের একটি অভিযান চালিয়েছিলেন তিনি।
তেলেঙ্গানা ক্যাডারের এই আইপিএস কর্মকর্তা এর আগে স্টেট ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
মালকাজগিরির পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি বেশ কয়েকজন শীর্ষ মাওবাদীর আত্মসমর্পণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। গত ১ মে তিনি মালকাজগিরির পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।