প্রকাশিত :  ১১:১৮
০৭ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:২১
০৭ মে ২০২৬

সন্তান নিতে সহকর্মীকে শুক্রাণু দানের প্রস্তাব দেন ইলন

সন্তান নিতে সহকর্মীকে শুক্রাণু দানের প্রস্তাব দেন ইলন

ওপেনএআইয়ের সাবেক বোর্ড সদস্য শিবন জিলিস ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যানের একটি মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন । তিনি ইলন মাস্কের চার সন্তানের মা। কোম্পানির আদর্শিক বিচ্যুতি সংক্রান্ত এ মামলায় ক্যালিফোর্নিয়ার স্থানীয় সময় বুধবার তিনি সাক্ষ্য দেন।

মাস্কের অভিযোগ, আদর্শিক বিচ্যুতির মাধ্যমে স্যাম অল্টম্যান ওপেনএআইকে একটি লাভজনক কোম্পানিতে রূপান্তর করেছেন। ওকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে এ মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার সময় জিলিস ওপেনএআইকে লাভজনক কোম্পানি করার প্রাথমিক আলোচনায় নিজের সম্পৃক্ততা এবং ইলন মাস্কের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে জানান, মাস্কের প্রস্তাবে রাজি হয়ে কীভাবে তিনি চার সন্তানের মা হয়েছেন।

আদালতকে জিলিস জানান, তিনি সবসময়ই মা হতে চেয়েছিলেন। ঠিক সে সময়ই ইলন মাস্ক তাঁকে একটি প্রস্তাব দেন। ২০২০ সালে মাস্ক তাঁকে স্পার্ম ডোনেশন বা শুক্রাণু দান করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। জিলিস আরও বলেন, ‘মাস্ক লক্ষ্য করেছিলেন, পরিচিতদের মধ্যে কেবল আমার কোনো সন্তান নেই। তাই তিনি নিজেই এই প্রস্তাবটি দিয়েছিলেন।’

জিলিস গত ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সিলিকন ভ্যালিতে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট হিসেবে কাজ করছেন। এর পাশাপাশি তিনি মাস্কের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা এবং নিউরোটেকনোলজি প্রতিষ্ঠান নিউরালিঙ্ক-এর উচ্চপদস্থ নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে ওপেনএআই প্রতিষ্ঠার অল্প সময় পরই জিলিস এতে উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন। বুধবার তিনি আদালতকে জানান, এই কাজের মাধ্যমেই মাস্কের সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় হয়। 

মাস্কের বিভিন্ন কোম্পানি এবং ওপেনএআইতে জিলিসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি ওপেনএআই-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ কারণে বর্তমান বিচার প্রক্রিয়ায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী।

ওপেনএআই-এর আইনজীবীরা জানান, এই কোম্পানি প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মাস্ক। তিনি বড় ধরনের অনুদান দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালে কোম্পানি থেকে পদত্যাগ করেন। অভিযোগ উঠেছে, ওই সময় জিলিস কোম্পানির গোপন তথ্য মাস্কের কাছে পাচার করেছিলেন। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে জিলিস ওপেনএআইয়ের বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেন। ঠিক সে সময় মাস্ক তাঁর নতুন এআই কোম্পানি এক্সএআই চালু করেন। পরে এর চ্যাটবট (গ্রোক) বাজারে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামে।

ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়ে জিলিস জানান, প্রায় এক দশক আগে মাস্কের সঙ্গে তাঁর একবার ‘রোমান্টিক’ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তবে ২০২০ সালে, যখন মাস্ক তাঁকে সন্তান নেওয়ার প্রস্তাব দেন, তখন তাঁদের মধ্যে কোনো রোমান্টিক সম্পর্ক ছিল না। স্বাস্থ্যগত কিছু জটিলতার কারণে তিনি বিয়ে করে সন্তান নেওয়ার চিন্তা এক সময় বাদ দিয়েছিলেন। কিন্তু মাস্ক শুক্রাণু দানের প্রস্তাব দিলে সেটি গ্রহণ করেন।

মামলা কী নিয়ে 

ইলন মাস্কের অভিযোগ অনুযায়ী, ওপেনএআইকে অলাভজনক সংস্থা থেকে বাণিজ্যিক কোম্পানিতে রূপান্তর করেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান ও সিইও স্যাম অল্টম্যান। এর মাধ্যমে তারা দুজন মিলে একটি ‘চ্যারিটি’ চুরি করেছেন। কারণ, প্রতিষ্ঠার সময় এটিকে লাভজনক না করার অঙ্গীকার ছিল। বাণিজ্যিক করে তারা মানবজাতির কল্যাণে কাজ করার মৌলিক অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছেন।

এ মামলায় গত মঙ্গলবার সাক্ষ্য দেন মাস্ক। তখন তিনি অল্টম্যানের বিরুদ্ধে করপোরেট প্রতারণার অভিযোগ আনেন। তিনি দাবি করেন, মুনাফার পেছনে ছুটতে গিয়ে অল্টম্যান মানবজাতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছেন।

মামলার বিচার চলাকালে জিলিস, অল্টম্যান, মাস্ক এবং ওপেনএআইয়ের আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা গ্রেগ ব্রকম্যানের মধ্যে আদান-প্রদান করা ইমেল ও টেক্সট মেসেজ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। ওপেনএআই-এর আইনজীবীরা এই তথ্যগুলো ব্যবহার করে দেখানোর চেষ্টা করছেন, কোম্পানিটির করপোরেট কাঠামো পরিবর্তনের আলোচনা অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছিল।

আদালতে দেখানো নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৭ সালের প্রথম দিকে একটি পূর্ণাঙ্গ অলাভজনক সংস্থা হিসেবে টিকে থাকা অসম্ভব মনে হতে থাকে। বিনিয়োগকারীদের কাছে থেকে শত শত কোটি ডলার সংগ্রহের প্রয়োজনে কাঠামো পরিবর্তন অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এ সম্পর্কিত আলোচনায় মাস্ক নিজেও যুক্ত ছিলেন।

ব্রকম্যান এবং ওপেনএআই-এর আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা ইলিয়া সুতস্কেভার তখন সংস্থাটিকে একটি ‘বি কর্প’-এ রূপান্তরের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বি কর্প হলো এমন এক ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান যা মুনাফার পাশাপাশি নির্দিষ্ট কোনো সামাজিক বা সেবামূলক লক্ষ্য পূরণে দায়বদ্ধ থাকে।

জিলিসের পাঠানো কিছু ইমেল থেকে জানা যায়, মাস্ক ওপেনএআই-এর ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ চেয়েছিলেন। তিনি বোর্ডে আরও সদস্য বাড়াতে এবং এমনকি ওপেনএআইকে টেসলার অধীনে একটি ‘বি কর্প’ সাবসিডিয়ারি কোম্পানি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। একটি লিখিত বার্তায় জিলিস জানিয়েছিলেন, ওপেনএআই যদি টেসলার অংশ হয়, তবে অর্থায়ন সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধান হতো।



Leave Your Comments




বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর