প্রকাশিত : ১০:৪৭
০৭ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:০৮
০৭ মে ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত ৫০ জন সদস্যের মধ্যে ১০ জনের নামে ঋণ ও দায়-দেনা রয়েছে, যা মোট নির্বাচিতদের ২০ শতাংশ। এদের মধ্যে ৪ জনের ঋণ ও দায়-দেনার পরিমাণ কোটি টাকার বেশি। এছাড়া শীর্ষ ১০ ঋণগ্রহীতার সবাই বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ৫০ জন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সুজন আয়োজিত ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সুজনের সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদারের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপস্থাপন করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।
সুজনের বিশ্লেষণে বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীদের মধ্যে মোট ঋণগ্রহীতা ছিলেন ১৩ জন (২৬ শতাংশ)। অর্থাৎ দ্বাদশ জাতীয় সংসদের তুলনায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নির্বাচিতদের মধ্যে ঋণগ্রহীতার হার কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, শীর্ষ দশজন ঋণগ্রহীতা হচ্ছেন- বিএনপির সেলিমা রহমান, হেলেন জেরিন খান, শিরিন সুলতানা, নিপুণ রায় চৌধুরী, মারদিয়া মমতাজ, সাকিলা ফারজানা, সুলতানা আহমেদ, সানজিদা ইসলাম ও ফাহমিদা হক এবং জামায়াতে ইসলামীর সাবিকুন্নাহার।
শীর্ষ ১০ জন উপার্জনকারী ও কোটিপতি ৪ জন
সুজন জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনে বিজয়ীদের ১০ জন শীর্ষ উপার্জনকারীর সবাই বিএনপির। তারা হচ্ছেন- শামীম আরা বেগম স্বপ্না, জহরত আদিব চৌধুরী, সাকিলা ফারজানা, আন্না মিনজ, সুলতানা আহমেদ, সানজিদা ইসলাম, নিপুণ রায় চৌধুরী, বীথিকা বিনতে হোসাইন, হেলেন জেরিন খান ও সেলিমা রহমান। তাদের মধ্যে কোটি টাকার অধিক আয়কারী অর্থাৎ কোটিপতি চারজন হচ্ছেন- বিএনপি থেকে নবনির্বাচিত এমপি শামীম আরা বেগম স্বপ্না (৪ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ৫০৬ টাকা), জহরত আদিব চৌধুরী (৩ কোটি ১৭ লাখ ২৮ হাজার ৩৯৩ টাকা), সাকিলা ফারজানা (৩ কোটি ৭১ হাজার ১২৩ টাকা) এবং আন্না মিনজ (১ কোটি ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ২৪৬ টাকা)।
আবার সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত ৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে (নির্ভরশীলসহ) বাৎসরিক ৫ লাখ টাকা বা তার চেয়ে কম আয় করেন মাত্র ১৬ জন (২৬ শতাংশ)। আয়ের ঘর পূরণ না করা ৭ জনসহ এই সংখ্যা দাঁড়ায় ২০ জন (৪০%)। বছরে ৫ লাখ টাকা থেকে ২৫ লাখ টাকা আয় করেন ১৯ জন (৩৮%), ২৫ লাখ টাকা থেকে ৫০ লাখ টাকা আয় করেন ৫ জন (১০%), ৫০ লাখ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা আয় করে ২ জন (৪৭%) এবং ১ কোটি টাকার অধিক আয় করেন ৪ জন (৮%)।
এছাড়া ৫ লাখ টাকা বা তার চেয়ে কম আয়কারী ২০ জনের (আয়ের ঘর পূরণ না করা ৭ জনসহ) মধ্যে ১১ জনই (৫৫%) জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে নির্বাচিত।
এতে বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিতদের মধ্যে স্বল্প আয়কারীর (৫ লাখ টাকার কম) হার ছিল ২৪% (১২ জন) এবং কোটি টাকার অধিক আয়কারীর হার ছিল ৪% (২ জন)। ত্রয়োদশ সংসদে তা দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৪০% (২০ জন) ও ৮% (৪ জন)।
বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্বল্প আয়কারীর হার যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, অধিক আয়কারীর হারও তেমনই বৃদ্ধি পেয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশা
সুজন জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৭৮ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত (স্নাতক ও স্নাতকোত্তর)। তাদের মধ্যে ৩০ জন স্নাতকোত্তর, ১৪ জন স্নাতক, দুজন এইচএসসি পাস, একজন এসএসসি ও দুজন স্বশিক্ষিত। এছাড়া ১ জন শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য প্রদান করেননি।
এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত ৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ১৫ জন পেশায় আইনজীবী। ১০ জনের পেশা ব্যবসা, চারজনের শিক্ষকতা। এছাড়াও ১ জন চাকরিজীবী ও ৫ জন গৃহিণী। ৬ জনের পেশা রাজনীতি। এছাড়াও ৮ জন বিভিন্ন পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ৩ জন পেশার ঘর পূরণ করেননি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন সুজনের ঢাকা মহানগর কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ক্যামেলিয়া চৌধুরী এবং সদস্য সজল ঘোষ।