প্রকাশিত :  ১৭:০৩
২৮ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:২৩
২৮ এপ্রিল ২০২৬

সূচকের সবুজ রঙে কি তবে শুভঙ্করের ফাঁকি?

সম্পাদকীয়

সূচকের সবুজ রঙে কি তবে শুভঙ্করের ফাঁকি?

২৯ এপ্রিল, ২০২৬ || দেশের পুঁজিবাজারে গত কয়েক কার্যদিবস ধরে যে চিত্র ফুটে উঠছে, তাকে এক কথায় ‘ধোঁয়াশা’ বলা ছাড়া উপায় নেই। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যখন পোর্টফোলিও খুলে দেখছেন লাল রঙের আধিপত্য, তখনই প্রধান সূচক ডিএসইএক্স (DSEX) ৮.৩২ পয়েন্ট বেড়ে ৫৩০৮.৮৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়ে এক অদ্ভুত স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে। এই ০.১৬ শতাংশের উত্থান কি বাজারের প্রকৃত শক্তিকে তুলে ধরছে, নাকি বড় মূলধনী কিছু শেয়ারের কৃত্রিম প্রলেপে দরপতনের ক্ষত ঢাকার চেষ্টা চলছে— সেই প্রশ্নটিই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সর্বশেষ কার্যদিবসের খাতা-কলমের হিসাব বলছে, বাজারের বিস্তৃত অংশে প্রবল চাপ বিদ্যমান ছিল। যেখানে ৮৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, সেখানে তার প্রায় তিনগুণ, অর্থাৎ ২৪৭টি প্রতিষ্ঠানের দরপতন ঘটেছে। সূচকের সামান্য এই বৃদ্ধি আসলে মূলত ব্যাংক খাতের ওপর ভর করে আসা একটি ‘টেকনিক্যাল সাপোর্ট’। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা যখন নির্বাচিত কিছু ব্যাংক ও ব্লু-চিপ শেয়ারে বিনিয়োগ করে সূচককে টেনে ধরে রাখতে চাইছেন, তখন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ছোট ও মাঝারি মূলধনী শেয়ারে ক্রমাগত পুঁজি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন।

এই অস্থিরতার পেছনে অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাম্প্রতিক শুদ্ধি অভিযান। আর্থিক প্রতিবেদনে অনিয়মের দায়ে মাহফেল হক অ্যান্ড কোং এবং আতা খান অ্যান্ড কোং-এর মতো বড় নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপটি নিঃসন্দেহে দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্বচ্ছতা বাড়াবে। কিন্তু স্বল্পমেয়াদে এটি এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক আস্থাহীনতা তৈরি করেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন সন্দিহান— তাঁদের হাতে থাকা শেয়ারটির আর্থিক প্রতিবেদন কতটা সঠিক?

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মুদ্রানীতি এবং ১০ শতাংশের রেপো রেট পুঁজিবাজারে তারল্য প্রবাহকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। ব্যাংক আমানতে যখন দ্বিগুণ অঙ্কের মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে, তখন ঝুঁকিপূর্ণ বাজারে নতুন টাকা আসার গতি মন্থর হওয়াই স্বাভাবিক। লেনদেনের পরিমাণ ৩৩.৬৫ কোটি টাকায় নেমে আসা তারই প্রতিফলন। বাজার এখন যে ‘কনসোলিডেশন ফেজ’ বা স্থিতিশীলতা খোঁজার চেষ্টা করছে, তার চূড়ান্ত পরীক্ষা হবে আজ, ২৯ এপ্রিল।

আজ স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এবং আইএফআইসি ব্যাংকের মতো প্রভাবশালী কোম্পানিগুলোর তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ হতে যাচ্ছে। এই কর্পোরেট আয়ের খবরগুলোই ঠিক করে দেবে বাজার ৫৩৪০ পয়েন্টের রেজিস্ট্যান্স স্তর অতিক্রম করবে, নাকি বিনিয়োগকারীদের দ্বিধা আরও দীর্ঘায়িত হবে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য এখন সময় হুজুগে গা ভাসানোর নয়। বাজার যখন দিকভ্রান্ত, তখন মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ারে নজর দেওয়াই হবে টিকে থাকার কৌশল। মনে রাখতে হবে, সূচকের সামান্য সবুজ রঙ কখনোই একটি অসুস্থ বাজারের সুস্থতার গ্যারান্টি হতে পারে না। স্বচ্ছতা ও প্রকৃত বিনিয়োগের মাধ্যমেই কেবল আস্থার সংকট কাটানো সম্ভব।


Leave Your Comments




পুঁজি বাজার এর আরও খবর