প্রকাশিত : ১১:২৫
২৭ এপ্রিল ২০২৬
ইরান তার জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান তুলে ধরে একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমারেখার তালিকা পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করেছে। তেহরান ইসলামাবাদকে অনুরোধ জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত বিষয়গুলো যেন দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে এই তথ্য সামনে এসেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তার সাম্প্রতিক পাকিস্তান সফরের সময় দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে এই গোপনীয় তালিকাটি তুলে দেন। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই তালিকায় মূলত পারমাণবিক কর্মসূচি এবং কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো এই বার্তা প্রদানের বিষয়টিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছে। তবে তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই তালিকা বা বার্তা দেওয়ার সঙ্গে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান বা সম্ভাব্য কোনো সরাসরি আলোচনার সম্পর্ক নেই। বরং এটি বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের অনড় অবস্থান পরিষ্কার করার একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা মাত্র।
তেহরান মনে করছে, পাকিস্তানের মতো একটি প্রতিবেশী ও গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শক্তির মাধ্যমে এই বার্তা ওয়াশিংটনে পৌঁছালে তা যুদ্ধের তীব্রতা কমাতে বা যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করবে।
প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ইরানের এই ‘রেড লাইন’ তালিকায় পারমাণবিক সক্ষমতা বজায় রাখা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই দুটি ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ বা সরাসরি আঘাত তেহরান কোনোভাবেই সহ্য করবে না।
যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল এই সীমারেখা অতিক্রম করার চেষ্টা করে, তবে ইরান কঠোরতম পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। যদিও তালিকার অন্য বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য সংবাদ সংস্থাগুলো প্রকাশ করেনি, তবে এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ছায়া যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের মাধ্যমে এই তালিকা পাঠানোর সিদ্ধান্তটি তেহরানের একটি সুচিন্তিত কূটনৈতিক কৌশল। পাকিস্তান একদিকে যেমন ইরানের প্রতিবেশী, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও দেশটির দীর্ঘদিনের সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।
ফলে একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে ইসলামাবাদকে ব্যবহার করে তেহরান মূলত সরাসরি সংঘাত এড়ানোর একটি পরোক্ষ পথ বেছে নিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এই ‘রেড লাইন’ তালিকাটিকে কতটা গুরুত্বের সঙ্গে নেবে এবং এর বিপরীতে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। বর্তমানে পুরো বিশ্ব এই গোপন বার্তার প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে যা ওই অঞ্চলের সামরিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
সূত্র: সিএনএন