প্রকাশিত : ০৯:৩৭
২৭ এপ্রিল ২০২৬
সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার মৌলভীবাজার সদর, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গল ও বড়লেখা উপজেলায় গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় আঘাত হানা কালবৈশাখী ঝড় এক ভয়াবহ চিত্র রেখে গেছে। মুহূর্তের ঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়ে, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো ভেঙে পড়ে জনজীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।
ঝড়ের তাণ্ডবে জেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটি হেলে পড়ে এবং অসংখ্য জায়গায় তার ছিঁড়ে যায়। এতে পুরো অঞ্চলজুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। শহর ও গ্রাম মিলিয়ে একসঙ্গে অন্ধকারে ডুবে যায় বিস্তীর্ণ জনপদ। বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ছিল বেশি বলে জানা গেছে।
কমলগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ঝড়ের আঘাতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। অভিযোগ কেন্দ্রের ওপর একটি বিশাল গাছ উপড়ে পড়ে পুরো এলাকা লন্ডভন্ড করে দেয়। অফিসের মালামাল রাখার ঘরটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেখানে থাকা তিনটি মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম গাছের নিচে চাপা পড়ে। একই সঙ্গে ১১ কেভি লাইনের একাধিক খুঁটি হেলে পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ লাইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও খুঁটি ভেঙে পড়েছে, কোথাও আবার তার ছিঁড়ে ঝুলে আছে। সমিতির জনবল ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা সমন্বিতভাবে মাঠে নেমে মেরামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হওয়ায় পুরোপুরি স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহে সময় লাগবে।
ঝড়ের পর বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে নানামুখী ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও দৈনন্দিন জীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। অনেকে জরুরি প্রয়োজনেও বাইরে বের হতে পারছেন না।
এদিকে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে কেন্দ্র করে কিছু এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঝড়-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার এবং জনজীবন স্বাভাবিক করা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করার চেষ্টা চলছে।
কালবৈশাখীর আকস্মিক এই তাণ্ডবে মৌলভীবাজারের মানুষ এখন অপেক্ষায়—কখন ফিরবে আলো, কখন স্বাভাবিক হবে জনজীবন।