প্রকাশিত : ০৬:৫৬
২০ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশি নাগরিক সানিউর রহমানকে ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের তীর্থ শহর ঋষিকেশে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি সাধুর পরিচয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দেশটিতে বসবাস করছিলেন।
মুম্বাইভিত্তিক স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম প্রাতকাল ও লক্ষ্ণৌভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম পঞ্চজন জানিয়েছে, লক্ষ্মণ ঝুলা এলাকার পুলিশ ওই ব্যক্তিকে আটক করে। তিনি নিজেকে ‘সত্যনিষ্ঠা আর্য’ বলে পরিচয় দিতেন এবং ধর্মীয় বক্তৃতার মাধ্যমে ভক্তদের প্রভাবিত করতেন। রাজ্য সরকারের বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন কালনামী’-র অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তদন্তে জানা গেছে, গ্রেফতার ব্যক্তির নাম সানিউর রহমান, ওরফে সত্যসাধু। তিনি বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি ২০১৬ সালে নেপাল হয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন এবং তখন থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সেখানে বসবাস করছিলেন। পরিচয় লুকাতে তিনি নাম বদলে ‘সত্যনিষ্ঠা আর্য’ রাখেন এবং একটি ভুয়া আধার কার্ড তৈরি করেন।
জানা গেছে, তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ও দার্শনিক বক্তৃতা দিতেন। ঋষিকেশ ও লক্ষ্মণ ঝুলা এলাকায় তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল এবং অনেকের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল।
সম্প্রতি তিনি লক্ষ্মণ ঝুলার একটি আশ্রমে যান। সেখানে নিয়মিত পুলিশ চেকিংয়ের সময় তাকে সন্দেহজনক মনে হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ বেশ কিছু আপত্তিকর নথি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধি ও বিদেশি আইন ২০২৫-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে। তার কার্যক্রম ও যোগাযোগের বিস্তার জানতে তদন্ত চলছে।
সানিউর রহমান ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলনে সক্রিয় একজন ব্লগার ছিলেন। তবে ২০১৬ সালের দিকে তিনি ভারতে পাড়ি জমান। সেখানে পরিচয় বদলে উগ্র হিন্দুত্ববাদীতে পরিণত হন। গেল বছর বড়দিনের সময় তিনি স্থানীয় একটি চার্চে গিয়ে খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের উৎসবে বাধা দিয়ে আলোচনায় আসেন।