প্রকাশিত : ০৫:৫৬
২০ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ওমান উপসাগরে জব্দের ঘটনা নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির দাবি, জাহাজটি নৌ অবরোধ লঙ্ঘনের চেষ্টা করছিল এবং সতর্কতা উপেক্ষা করায় গুলি চালিয়ে সেটিকে অচল করে জব্দ করা হয়।
গত রোববার (১৯ এপ্রিল) ঘটনাটি ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পতাকাবাহী জাহাজটি মার্কিন নৌ অবরোধ ভেঙে চলাচলের চেষ্টা করছিল। প্রথমে একাধিকবার সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও তা উপেক্ষা করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার জাহাজটির ইঞ্জিনরুম লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে জাহাজটির প্রপালশন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে এবং সেটি চলাচলের অক্ষম হয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, জাহাজটির নাম ‘তুস্কা’। এটি ইরানের বন্দর আব্বাসের দিকে যাচ্ছিল। ঘটনার পর জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে এবং এর ভেতরে কী রয়েছে তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে দাবি করেন, “এই মুহূর্তে জাহাজটি আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা এতে কী আছে, তা পরীক্ষা করে দেখছি।”
অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জাহাজটি চীন থেকে যাত্রা করছিল এবং নিয়মিত বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এটি চলছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে তারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের জলসীমা দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই জাহাজ জব্দের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কারণ এটি সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ আটক করার ঘটনা, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
এদিকে ঘটনার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জাহাজটির ভেতরে থাকা পণ্য ও নথিপত্র পরীক্ষা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইরান এ ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, তাদের বাণিজ্যিক জাহাজ ও জলপথে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করছে।