প্রকাশিত : ০৯:০২
১৫ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:০৪
১৫ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে—এমন প্রত্যাশায় বুধবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তেলের দাম কমেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনায় অগ্রগতি হলে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা তেল বাজারে ফিরতে পারে। বিশ্বের প্রধান শেয়ার বাজারগুলোতেও ঊর্ধ্বগতি ধারা দেখা গেছে।
আজ বুধবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ২৭ ডলারে নেমেছে। আগের দিন এই তেলের দাম কমেছিল ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক শূন্য ৪ ডলার বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৯০ দশমিক ২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে; আগের দিন যা ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছিল। খবর রয়টার্সের
এশিয়ার প্রধান শেয়ার বাজারগুলোতেও ঊর্ধ্বগতি ধারা দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক বেড়ে প্রায় ১ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি এক্সচেঞ্জ ৩ শতাংশ বেড়েছে। এর আগে মঙ্গলবার জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছিল যখন ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, একটি চুক্তির লক্ষ্যে ইরান হোয়াইট হাউসের সাথে যোগাযোগ করেছে।
সাত দিন পতনের পর ডলারের মান স্থিতিশীল
রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার এশিয়ার শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা লক্ষ্য করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার আশায় তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, টানা সাত দিন পতনের পর ডলারের মান স্থিতিশীল হয়েছে।
বিনিয়োগকারীরা এই পরিস্থিতিকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। জাপানের বাইরে এমএসসিআই এশিয়া-প্যাসিফিক সূচক ১.৫ শতাংশ বেড়ে গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। চীনের ব্লু-চিপ শেয়ার ০.২ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ০.৭ শতাংশ বেড়েছে।
ইউরোপের বাজারে কিছুটা ধীরগতি
তবে ইউরোপের বাজারগুলোতে কিছুটা ধীরগতির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার ১ শতাংশ বেড়ে ৯৫.৭৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের রাতে প্রায় ৫ শতাংশ কমে ১০০ ডলারের নিচে নেমেছিল।
অনলাইন ব্রোকার পেপারস্টোনের সিনিয়র রিসার্চ স্ট্র্যাটেজিস্ট মাইকেল ব্রাউন বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে, কোনো পক্ষই সংঘাত বাড়াতে চাচ্ছে না। হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মূলত আলোচনার একটি কৌশল মাত্র।’ তার মতে, পরিস্থিতি এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির দিকেই এগোচ্ছে।
ট্রেজারি বন্ডের বাজারেও স্বস্তি
এদিকে মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদক মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়ায় যুদ্ধকালীন মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে এমন আশাবাদ ট্রেজারি বন্ডের বাজারেও স্বস্তি ফিরিয়েছে। দুই বছরের মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড কমে ৩.৭৪৬ শতাংশ এবং ১০ বছরের ইল্ড ৪.২৪৩৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
সোনার দাম কমেছে
টানা সাত দিন পতনের পর নিরাপদ সম্পদ হিসেবে পরিচিত মার্কিন ডলারের মান স্থিতিশীল হয়েছে। ইউরোর দাম ১.১৭৯১ ডলারে অপরিবর্তিত রয়েছে এবং সোনার দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৮২৪ ডলারে নেমেছে।
তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের সরবরাহ এখনও কার্যত বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, সংঘাত আরও বাড়লে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার কবলে পড়তে পারে।