প্রকাশিত : ০৮:২১
১৩ এপ্রিল ২০২৬
আশা ভোঁসলের গান ভালোবাসেন না– এমন শ্রোতার সংখ্যা সত্যিই বিরল। তিনি সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে হিন্দি ও বাংলা গানের জগতে রাজত্ব করেছেন। কঠিন রাগ থেকে শুরু করে হালকা ধ্রুপদি সুর, সেই সঙ্গে চিত্তাকর্ষক চলচ্চিত্রের গান–সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি ছিলেন সুরের সম্রাজ্ঞী। তাঁর প্রতিভা, দক্ষতা আর শ্রোতাদের বিমোহিত করার ক্ষমতা ছিল প্রশ্নাতীত।
ছোটবেলা থেকে তাঁর গান শুনে বড় হয়েছি। তাঁর কণ্ঠ আমার মতো লাখো মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। বছরের পর বছর ধরে তাঁর সঙ্গে আমার এক সুন্দর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। একসময় আমি শুধু তাঁর ভক্তই ছিলাম না, তাঁর বন্ধুও হয়ে উঠেছিলাম। তাই তো তাঁর চলে যাওয়ার খবর শুনে যেন ভেতরটা একেবারে ভেঙে পড়ল। মনে হলো, খুব কাছের কাউকে হারিয়ে ফেললাম। বারবার শুধু একটি কথাই মনে ভেসে উঠছে– ‘উফ্ আল্লাহ, এ আমি কী শুনলাম!’
এই তো গতকাল (শনিবার) রাতে তাঁর ভাইয়ের ছেলে বৈদ্যনাথ মঙ্গেশকরের সঙ্গে কথা বলছিলাম। ওর কাছ থেকেই জানতে পারি, আশাজির (আশা ভোঁসলে) শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। তখন থেকেই মনটা খারাপ হয়ে আছে। কিন্তু কোথাও একটা আশা ছিল– তিনি ঠিকই আবার উঠে দাঁড়াবেন। কারণ, তিনি এমন মানুষ, যিনি সব বাধা জয় করে এগিয়ে যেতে জানেন।
আমাদের সম্পর্ক কিন্তু শুরু থেকেই এতটা ঘনিষ্ঠ ছিল না। ২০১২ সালে বাংলাদেশ, ভারত আর পাকিস্তানের প্রতিযোগীদের নিয়ে ২০১২ সালে দুবাইয়ে আয়োজন করা হয় রিয়েলিটি শো ‘সুরক্ষেত্র’। এই রিয়েলিটি শোতে আমি, আশা ভোঁসলে আর আবিদা পারভীন একসঙ্গে বিচারকের দায়িত্ব পালন করি। সেই অনুষ্ঠান থেকেই আমাদের প্রথম পরিচয়, আর ধীরে ধীরে তা গড়ে ওঠে এক আন্তরিক বন্ধুত্বে। শুটিং সেটে কত আড্ডা, কত হাসি! সেই মুহূর্তগুলো আজও চোখের সামনে ভাসে।