প্রকাশিত : ০৭:৫৪
০৯ এপ্রিল ২০২৬
ইরান যুদ্ধ পরিচালনা এবং ‘একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা আজ রাতে ধ্বংস হয়ে যাবে’—এমন উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথমবারের মতো তার পদত্যাগের ব্যাপক দাবি উঠেছে। মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে তাকে অপসারণ বা অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন।
কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জন লারসন মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব (আর্টিকেলস অব ইমপিচমেন্ট) দাখিল করেছেন। লারসন তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, পুরো একটি সভ্যতাকে ধ্বংস করার হুমকি এবং ইস্টার সানডের দিন করা অসংলগ্ন মন্তব্যগুলো কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকেই ঝুঁকিতে ফেলছে না, বরং এগুলো ‘যুদ্ধাপরাধের’ আগাম আভাস দিচ্ছে।
কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট নেতাদের মতে, ট্রাম্পের মানসিক অস্থিতিশীলতা দিন দিন বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে। সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, যদি মন্ত্রিসভা ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়, তবে রিপাবলিকানদের উচিত অবিলম্বে কংগ্রেসের অধিবেশন ডেকে এই যুদ্ধ বন্ধ করা।
সিনেটর এড মার্কিও একই সুর মিলিয়ে বলেছেন, ট্রাম্প বিশ্ববাসীর জন্য এক ‘স্পষ্ট ও বর্তমান বিপদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ডেমোক্র্যাটরা আশা করছেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তারা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে এই অভিশংসন প্রক্রিয়াকে চূড়ান্ত রূপ দিতে পারবেন।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে অবশ্য ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থানের পক্ষে সাফাই গাওয়া হয়েছে। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছেন যে, প্রেসিডেন্টের এই শক্তিশালী হুমকির কারণেই ইরান নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে এবং দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়ে হরমুজ প্রণালী খুলে দিয়েছে। তবে ইলহান ওমরের মতো প্রগতিশীল প্রতিনিধিরা ট্রাম্পকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে দ্রুত অপসারণের দাবি তুলেছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ জনের বেশি আইনপ্রণেতা বর্তমানে ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, ট্রাম্পের এক সময়কার কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত রিপাবলিকান নেত্রী মার্জোরি টেইলর গ্রিনও এবার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন, ‘আমরা একটি আস্ত সভ্যতাকে হত্যা করতে পারি না, এটি চরম উন্মাদনা ও শয়তানি।’
এছাড়া ডানপন্থী প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব টাকার কার্লসন ও অ্যালেক্স জোনসও ট্রাম্পের যুদ্ধ নীতির সমালোচনা করেছেন। এর জবাবে ট্রাম্প কার্লসনকে ‘নিম্ন বুদ্ধিসম্পন্ন’ ব্যক্তি বলে কটাক্ষ করেছেন। যদিও রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে বা ট্রাম্পের নিজের নিয়োগ দেওয়া মন্ত্রিসভায় ২৫তম সংশোধনী পাস হওয়া কঠিন, তবুও এই নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ চাপ ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শাসনকালকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলেছে।
উল্লেখ্য, বুধবার (৮ এপ্রিল) দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এর মধ্য দিয়ে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: স্পেক্ট্রাম নিউজ