প্রকাশিত :  ১৭:২১
০৭ এপ্রিল ২০২৬

স্থবিরতার বৃত্তে পুঁজিবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থবিরতার বৃত্তে পুঁজিবাজার

বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুঁজিবাজার নিছক বিনিয়োগের জায়গা নয়; এটি আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতার এক অনন্য মানদণ্ড। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পরবর্তী অন্তর্বর্তী ও নির্বাচিত সরকারের প্রশাসনিক সংস্কার সত্ত্বেও পুঁজিবাজার গভীর সংকটে জর্জরিত। ২০২৬ সালের এপ্রিলের বাস্তবতা অত্যন্ত কঠিন—প্রধান বাজারসূচক কেবল নিম্নমুখীই নয়, বিনিয়োগকারীদের আস্থা প্রায় শূন্যে নেমেছে। একটি উদীয়মান অর্থনীতির জন্য যেখানে পুঁজিবাজার প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হওয়ার কথা, সেখানে তা এখন অদক্ষতা, তারল্য সংকট ও নেতৃত্বের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। নিচে বাজারের বর্তমান অবস্থা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেতৃত্বজনিত অসন্তোষ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত পরিবর্তন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় সরকার ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বিশ্লেষণ করা হলো।

পুঁজিবাজারের বর্তমান চিত্র: সংখ্যা ও গুণগত মূল্যায়ন

২০২৬ সালের এপ্রিলের শুরুতেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫,১৭৮ পয়েন্টের কাছাকাছি—যা ৫২ সপ্তাহের সর্বোচ্চ ৫,৬৭৪.৫১ পয়েন্ট থেকে অনেক নিচে। দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতায় দেখা যায়, ২০২৪ সাল থেকে বাজার ধারাবাহিক নেতিবাচক রিটার্ন দিচ্ছে। এশিয়ার অন্যান্য বাজারে—যেখানে পাকিস্তানে ৮৫ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন বা থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় ২ শতাংশের মতো ওঠানামা—সেখানে বাংলাদেশী বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি হয়েছে ১৬ শতাংশ। এটি স্পষ্ট যে বৈশ্বিক কারণের চেয়ে অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতাই এই পতনের প্রধান কারণ।

২০২৬ সালের ৩১ মার্চ ডিএসইএক্স একদিনেই ৫২.৫ পয়েন্ট কমেছে। এটি নিছক একদিনের পতন নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতার অংশ। ৬ এপ্রিল ২০২৬-এ ডিএসইর মোট লেনদেন দাঁড়ায় ৪,৭০৭.৯৩ মিলিয়ন টাকা। জানুয়ারি ২০২৫-এ বাজার মূলধন ছিল ৩.৪৯ ট্রিলিয়ন টাকা, আর গত ৫২ সপ্তাহের সূচক সীমা ৪,৫৮৮.৪৪ থেকে ৫,৬৭৪.৫১-এর মধ্যে। একই দিনে মোট ট্রেড সংখ্যা ছিল ১,৪৯,৩০৫টি।

বৃহৎ মূলধনী শেয়ারে (লার্জ-ক্যাপ) বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। যেকোনো রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় তারা নিরাপদ বিনিয়োগের খোঁজে সেই শেয়ার বিক্রি করছে, যা সূচকের পতন ত্বরান্বিত করে। অন্যদিকে কিছু সুযোগসন্ধানী বিনিয়োগকারী স্বল্প মূলধনী ও ফাটকা শেয়ারে (মোমেন্টাম-চালিত স্পেকুলেটিভ স্ক্রিপ) দ্রুত মুনাফার চেষ্টা করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে খাতভিত্তিক লেনদেনের চিত্র আরেকটি অস্বাস্থ্যকর নির্ভরশীলতা প্রকাশ করে। ব্যাংকিং খাতে লেনদেন হয় ২৮,১৯৪.৪৯ মিলিয়ন টাকা, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ২০,১৭৫.৭৩ মিলিয়ন, বীমা খাতে ১৪,৯৬৩.৯৩ মিলিয়ন, বস্ত্র খাতে ১৪,০৮১.২৬ মিলিয়ন, প্রকৌশল খাতে ১০,৪৬১.০৫ মিলিয়ন, খাদ্য ও আনুষঙ্গিকে ৯,৩৯৬.৭০ মিলিয়ন, জ্বালানি ও বিদ্যুতে ৬,১৯২.২৯ মিলিয়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মাত্র ৪,১১০.০১ মিলিয়ন টাকা লেনদেন হয়। ব্যাংকিং ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা সমস্যার কারণ। ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট ও উচ্চ খেলাপি ঋণ (এনপিএল) বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ খেলাপি ঋণ মোট ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে।

বিএসইসি নেতৃত্ব ও জনাব খন্দকার রাশেদ মাকসুদ প্রসঙ্গ

বিনিয়োগকারীরা বর্তমান সংকটের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নেতৃত্বকেই প্রধানত দায়ী করছেন। ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট সাবেক ব্যাংকার খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে বিএসইসির চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি সিটিব্যাংক এনএ, এনআরবিসি ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে ২৮ বছর ব্যাংকিং করেছেন। কিন্তু একজন সফল ব্যাংকারের পুঁজিবাজারের মনস্তাত্ত্বিক ও জটিল রসায়নে যথেষ্ট দক্ষতা নেই বলে অভিযোগ। ব্যাংকিং নির্ভর করে ঋণ ও আমানত ব্যবস্থাপনার ওপর, আর পুঁজিবাজার চলে প্রত্যাশা, তারল্য প্রবাহ ও আস্থার ভিত্তিতে।

বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ ও ব্রোকার হাউসগুলো বলছে, মাকসুদের নেতৃত্বে কমিশন এমন নীতি গ্রহণ করেছে যা বাজারের স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত করেছে। বিশেষ করে মার্জিন ঋণ বিধিমালা ও মিউচুয়াল ফান্ড সংক্রান্ত নতুন নিয়ম ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী। ২০২৫ সালের ৫ মার্চ বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অবরুদ্ধ করে পদত্যাগ দাবি করেন। নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রতিবাদে ওই বিক্ষোভ শুরু হয়। পরবর্তীতে ২১ জন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করায় অভ্যন্তরীণ পরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। যখন নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাই চেয়ারম্যানের ওপর আস্থা রাখতে পারেন না, তখন বাজারের বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো আরও কঠিন।

বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা মতিঝিল ও আগারগাঁওয়ে একাধিক মানববন্ধন করেছেন। তাদের দাবি, মাকসুদ দায়িত্ব নেওয়ার পর আট মাসে সূচক প্রায় ৯০০ পয়েন্ট কমেছে এবং বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৮০,০০০ কোটি টাকার পুঁজি হারিয়েছেন। কঠোর নিয়মে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ১৮ মিলিয়ন থেকে ৭ মিলিয়নে নেমেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্ব ও মুদ্রানীতির প্রভাব

পুঁজিবাজারের সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করে নীতি সুদহার (পলিসি রেট) ১০ শতাংশে উন্নীত করেন, ফলে ব্যাংক ঋণের সুদের হার ১৬ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। উচ্চ সুদ পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সঞ্চয়ী হিসাবে বা বন্ডে সরিয়ে দেয়। ড. মনসুরের মেয়াদ ছিল মাত্র ১৮ মাস। তিনি ব্যাংকিং অনিয়মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেও পুঁজিবাজারে বিশেষ তারল্য সহায়তা দেননি। পরে সিএসআর ফান্ডের অর্থ অপব্যবহার ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তাকে পদচ্যুত করা হয়।

২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি মো. মোস্তাকুর রহমান ১৪তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি পেশাদার হিসাববিদ (এফসিএমএ) ও ব্যবসায়ী। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে তার নিজের কোম্পানি ‘হেরা সোয়েটার্স’-এর ঋণ পুনর্গঠনের বিতর্ক শুরু থেকেই নৈতিক প্রশ্ন তুলেছে। পুঁজিবাজারের কাছে তার বড় প্রত্যাশা হলো সুদের হারের যৌক্তিকীকরণ। উচ্চ সুদের হার কমিয়ে ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন, কিন্তু তার যোগ্যতা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।

কাঠামোগত দুর্বলতা ও বাজারের গভীরতা সংকট

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যায় জর্জরিত। গত ১৮ মাসে কোনো উল্লেখযোগ্য আইপিও আসেনি। তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও আমলাতান্ত্রিক হওয়ায় ভালো কোম্পানি আসতে চায় না, যেখানে ভারতে প্রতি বছর শত শত কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়। ডিএসইতে প্রায় ৪০০ কোম্পানি তালিকাভুক্ত থাকলেও মাত্র ২৫-৩০টিকে ‘বিনিয়োগযোগ্য’ মনে করা হয়। মিউচুয়াল ফান্ডের বাজার মূলধন ৩ শতাংশের নিচে; অধিকাংশ ফান্ডের এনএভি (নেট অ্যাসেট ভ্যালু) মুখমূল্যের নিচে। এছাড়া ২০২৬ সালের শুরুতে বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৬৬ মিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছেন, যা আমাদের বিনিয়োগ পরিবেশের দুর্বল ভাবমূর্তি প্রতিফলিত করে।

ক্ষুদ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় সরকার ও বিএসইসির দায়িত্ব

সারা জীবনের সঞ্চয় হারানো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় বিএসইসি ও সরকারের কেবল শোক প্রকাশ নয়, কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বিএসইসির প্রস্তাবিত নতুন মার্জিন ঋণ বিধিমালায় একজন বিনিয়োগকারীকে মার্জিন ঋণ পেতে অন্তত ৫ লাখ টাকার ব্যক্তিগত বিনিয়োগ থাকতে হবে। যাদের বিনিয়োগ ৫ লাখ টাকার কম, তাদের এক বছরের মধ্যে বিনিয়োগ বাড়ানোর শর্ত দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে শেয়ার বিক্রি করা হবে। এটি গণ-বিক্রয়ের চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সরকারের উচিত এই বিধিমালা স্থগিত করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য নমনীয় শর্ত আরোপ করা। এছাড়া সম্প্রতি পাঁচটি ব্যাংককে অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্তে ওই ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন—তাদের বিনিয়োগের কী হবে, তা নিয়ে স্পষ্ট গাইডলাইন নেই।

পুঁজিবাজার পুনরুদ্ধারে পেশাদার অর্থনীতিবিদের সুপারিশমালা

বাজারকে মৃতপ্রায় অবস্থা থেকে ফিরিয়ে আনতে সরকারকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রথম, কর প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তা: তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করের ব্যবধান কমপক্ষে ১০-১৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য বছরে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশ আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত ঘোষণা করা জরুরি। ইক্যুইটি বাজারের চাপ কমাতে একটি শক্তিশালী বন্ড মার্কেট গড়ে তুলতে হবে, যেখানে বন্ডের ওপর ২০ শতাংশ পর্যন্ত ট্যাক্স রিবেট দেওয়া যেতে পারে।

দ্বিতীয়, তারল্য সংকট নিরসনে বিশেষ তহবিল: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের কোটা যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘স্থিতিশীকরণ তহবিল’ (স্টেবিলাইজেশন ফান্ড) গঠন করে স্বল্প সুদে ব্রোকার হাউসগুলোকে ঋণ দেওয়া যেতে পারে, যাতে তারা বাজারে সহায়তা দিতে পারে।

তৃতীয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থায় আমূল পরিবর্তন ও সুশাসন: বিএসইসি চেয়ারম্যান নিয়োগে ব্যাংকিং পটভূমির চেয়ে ফিন্যান্স বা অর্থনীতিতে দক্ষ পেশাজীবীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। আইপিও অনুমোদনের সময় ৩-৬ মাসের মধ্যে আনতে হবে। কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও জেল-জরিমানা নিশ্চিত করতে হবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির অডিট স্বচ্ছতার জন্য ভুল প্রতিবেদন দিলে অডিট ফার্মের লাইসেন্স বাতিল করার মতো কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

চতুর্থ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা: ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-কে শক্তিশালী করে প্রকৃত মার্কেট মেকার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিমা কোম্পানি ও প্রভিডেন্ট ফান্ডগুলোকে পুঁজিবাজারে নির্দিষ্ট অংশ বিনিয়োগে বাধ্য করা যেতে পারে।

পঞ্চম, বিনিয়োগ শিক্ষা ও সচেতনতা: দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। বিএসইসি কেবল নিয়ন্ত্রক নয়, বিনিয়োগকারীদের অভিভাবক হিসেবে কাজ করবে।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সরকার এখনই দক্ষ নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে না পারলে এই বাজার কেবল সাধারণ মানুষের পুঁজিই নষ্ট করবে না, বরং অর্থনীতির ওপর আস্থাও নষ্ট করবে। খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বা বর্তমান গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি বাজারের রূঢ় বাস্তবতার প্রতিফলন। সরকারকে অবশ্যই যোগ্য ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাতে হবে। ‘এখন আর অনিশ্চয়তায় সময় নষ্ট নয়, শুধু কাজের সময়’—এই বিনিয়োগকারীদের আকুতিকে গুরুত্ব দিয়ে একটি টেকসই, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব পুঁজিবাজার গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় শক্তিশালী পুঁজিবাজারের বিকল্প নেই। এই প্রতিবেদন নীতিনির্ধারক ও সাধারণ জনগণের জন্য দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে—পুঁজিবাজার সংস্কার কেবল অর্থনৈতিক নয়, এটি একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিও, যা কোটি মানুষের অর্থনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ করে।


Leave Your Comments




পুঁজি বাজার এর আরও খবর