প্রকাশিত :  ১৫:৩৯
০৪ এপ্রিল ২০২৬

টরন্টোতে কনস্যুলার কোরের সম্মানে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের রিসেপশন

টরন্টোতে কনস্যুলার কোরের সম্মানে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের রিসেপশন

স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) টরন্টোতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল কনস্যুলার কোরের সম্মানে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অ্যাট্রিয়া ওয়ানের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে টরন্টোতে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কনস্যুলার কোরের সদস্য, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা, অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্ট ও সিটি কাউন্সিলের সদস্যসহ কানাডার কয়েকজন রাজনীতিবিদ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্টারিওর মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী বিজয় থানিগাসালাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।  এছাড়াও অন্টারিওর প্রাদেশিক সংসদ সদস্য আরিস বাবিকিয়ান অনুষ্ঠানটিতে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানের বক্তব্যে কনসাল জেনারেল শাহ্ আলম খোকন দেশের স্বাধীনতার জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকারী শহিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও নারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।  তিনি স্বাধীনতার ঘোষক প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান, যার ঐতিহাসিক ঘোষণা জাতিকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।  এছাড়া গণতান্ত্রিক সংগ্রামে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন তিনি।

কনসাল জেনারেল উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এ বছরের স্বাধীনতা দিবস বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।  তিনি বাংলাদেশের বহুত্ববাদী নীতির প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট পদে বাংলাদেশ প্রার্থীতা ঘোষণা করেছে, যার নির্বাচন ২০২৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত হবে।  তিনি আরও জানান, সদ্য নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকার এ পদে মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছে।

কনসাল জেনারেল শাহ্ আলম খোকন বলেন, এই প্রার্থীতা বহুত্ববাদের প্রতি আমাদের গভীর অঙ্গীকার এবং জটিল এই সময়ে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় অর্থপূর্ণ অবদান রাখার ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করে।  তিনি এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা কামনা করেন।  তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য বাংলাদেশ একটি নেতৃত্বস্থানীয় কণ্ঠস্বর এবং দেশটি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে শীর্ষ সেনা প্রেরণকারী দেশগুলোর অন্যতম।  পাশাপাশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. জসীম উদ্দিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তার বক্তব্যে বাংলাদেশ ও কানাডার গভীর ও সুদীর্ঘ বন্ধুত্বের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং উল্লেখ করেন যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ হয়েছে।  তিনি সম্প্রতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কানাডার অবিচল সমর্থনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।  

এ সমর্থনকে গণতন্ত্র, বহুত্ববাদ ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা দুই দেশের পারস্পরিক মূল্যবোধের প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করেন হাইকমিশনার।

হাইকমিশনার আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অংশীদারত্বের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের বিকাশমান শিল্প ও অবকাঠামো খাতে কানাডীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের জন্যই লাভজনক বাণিজ্যের প্রসারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।  কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরে হাইকমিশনার তাদের দুই দেশের জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনাকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

হাইকমিশনার জসীম উদ্দিন তার বক্তব্যে আরও বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট পদে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা তার ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক মর্যাদারই বহিঃপ্রকাশ।  ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বৈশ্বিক দক্ষিণের স্বার্থ রক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুত্ববাদের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধান অতিথি অন্টারিওর সহযোগী মন্ত্রী বিজয় থানিগাসালাম কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের রেসিলিয়েন্স ও পারস্পরিক বন্ধনের প্রশংসা করেন।

আগত অতিথিদের জন্য বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।



Leave Your Comments




প্রবাসী কমিউনিটি এর আরও খবর