প্রকাশিত : ১০:৩৪
২৭ মার্চ ২০২৬
জ্যৈষ্ঠ প্রতিবেদক সৈয়দ আমানউল্লাহ: দেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর কালজয়ী কণ্ঠশিল্পী এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত মাহবুবা রহমান আর নেই। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার জীবনাবসান ঘটে।
তার মৃত্যুতে দেশের সংগীত অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংগীতের ইতিহাসে বিশেষ অবদান রেখে গেছেন মাহবুবা রহমান।
১৯৫৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত দেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশ-এ কণ্ঠ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি সংগীতজগতে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেন। ছবিটিতে সুরকার সমর দাস-এর সুরে ‘মনের বনে দোলা লাগে’ গানটি গেয়ে তিনি শ্রোতাদের নজর কাড়েন এবং ইতিহাসে নিজের নাম লেখান।
এরপর তিনি বহু জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। বিশেষ করে ফতেহ লোহানী পরিচালিত আসিয়া চলচ্চিত্রে তার গাওয়া ‘আমার গলার হার খুলে নে’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এছাড়া ‘আমার যদি থাকতো পাখির ডানা’, ‘সোনালী এই ধানের ক্ষেতে’ এবং ‘আজকে আমার মালঞ্চে ফুল ফোটে নাই’-এর মতো বহু কালজয়ী গান তিনি শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন।
চলচ্চিত্র সংগীতে তার অবদান ছিল দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ। তিনি জাগো হুয়া সাভেরা, এই দেশ তোমার আমার, নবাব সিরাজউদ্দৌলাসহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন। তার কণ্ঠের আবেগ ও স্বাতন্ত্র্য তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয় এবং বাংলা চলচ্চিত্র সংগীতে স্থায়ী আসন করে দেয়।
সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদক-এ ভূষিত করে।
শুক্রবার মগবাজার ওয়্যারলেস জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর তাকে দাফন করা হবে পারিবারিক কবরস্থানে। সংগীতাঙ্গনের এই কিংবদন্তি শিল্পীর মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হলো।