প্রকাশিত :  ০৮:০৫
২২ মার্চ ২০২৬

ইসরায়েলে ইরানের নজিরবিহীন হামলার পর নেতানিয়াহু বললেন, ‘অত্যন্ত কঠিন সন্ধ্যা’

ইসরায়েলে ইরানের নজিরবিহীন হামলার পর নেতানিয়াহু বললেন, ‘অত্যন্ত কঠিন সন্ধ্যা’

ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও অসংখ্য মানুষ হতাহত হওয়ার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বর্তমান সময়কে ‘অত্যন্ত কঠিন এক সন্ধ্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। 

গতকাল শনিবার (২১ মার্চ) রাতে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ইরানের ছোঁড়া শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরাসরি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে আরাদ এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিমোনা শহরে এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে। 

ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে, হামলার পর এ পর্যন্ত ৮৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আরাদ শহরের মেয়রের সঙ্গে কথা বলে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক বার্তায় উল্লেখ করেন, এই সংকটময় মুহূর্তে মাঠে কর্মরত জরুরি ও উদ্ধারকারী বাহিনীগুলোকে আরও শক্তিশালী করা হবে। 

দেশটির সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সরকারের দেওয়া নিরাপত্তা নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। দিমোনা শহরের হামলাটি ইসরায়েলের জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ শহরটি দেশটির প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সেখানে আঘাত হানল, তা নিয়ে দেশটির সামরিক মহলে তোলপাড় চলছে।
নেতানিয়াহু তাঁর বক্তব্যে ইরানের এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে, ইসরায়েল সব ফ্রন্টে তাদের শত্রুদের ওপর পাল্টা হামলা চালিয়ে যেতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই ধরনের আক্রমণ কোনোভাবেই বিনা জবাবে ছেড়ে দেওয়া হবে না। 
বর্তমানে পুরো ইসরায়েলজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য পরবর্তী হামলার আশঙ্কায় সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলো থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক অভিযানের প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দিমোনার মতো স্পর্শকাতর এলাকায় ইরানের এই সফল আঘাত ইসরায়েলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন এক অনিয়ন্ত্রিত দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 
এরই মধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে ইসরায়েলি নাশকতার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। সংঘাতের এই নতুন পর্যায় কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আপাতত উভয় পক্ষই যুদ্ধের ময়দানে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল


Leave Your Comments




আন্তর্জাতিক এর আরও খবর