প্রকাশিত :  ১৮:১৩
১৪ মার্চ ২০২৬

বেইজিং-তেহরান অক্ষ: ২০২৬-এর ইরান সংকটে চীনের কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনের ব্যাখ্যা

বেইজিং-তেহরান অক্ষ: ২০২৬-এর ইরান সংকটে চীনের কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনের ব্যাখ্যা

✍️ রেজুয়ান আহম্মেদ

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘ ইতিহাসে ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ একটি বিভাজনরেখা সৃষ্টি করল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী 'অপারেশন এপিক ফিউরি' নামে ইরানের ভূখণ্ডে এক নজিরবিহীন সামরিক অভিযান শুরু করে। প্রথম ১২ ঘণ্টার মধ্যেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই-সহ ডজনখানেক শীর্ষ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক নেতা নিহত হওয়ার খবর আসে। তেহরানে নেমে আসে এক ধরনের নৈরাজ্য।

কিন্তু এই অভিযানের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ধাক্কাটি এসেছে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশার বাইরে থেকে—বেইজিং থেকে। গণপ্রজাতন্ত্রী চীন, যে দেশ দীর্ঘদিন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে 'সতর্ক নিরপেক্ষতা' নীতি অনুসরণ করে এসেছে, তারা সরাসরি ইরানের সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নেয়। বেইজিংয়ের এই পদক্ষেপ কেবল নিন্দার বক্তব্য নয়; এটি একটি সুস্পষ্ট কৌশলগত বার্তা যে মার্কিন একাধিপত্যের বিরুদ্ধে বিকল্প শক্তিকেন্দ্র গড়ে তোলার উচ্চাকাঙ্ক্ষা এখন বাস্তব রূপ নিচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে 'গেম চেঞ্জার': চীনের নতুন কৌশলগত দর্শন

ঐতিহাসিকভাবে চীন মধ্যপ্রাচ্যে অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবেই বেশি সক্রিয় ছিল। জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাণিজ্যই ছিল তাদের মূল এজেন্ডা। কিন্তু ২০২৬ সালের এই সংকট বেইজিংকে একটি নতুন ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে বাধ্য করেছে। মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের প্রায় ৯০০টি বিমান হামলা ইরানের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের পাশাপাশি চীনের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত স্বার্থকেও আঘাত করেছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এই অভিযানকে 'জঙ্গলের আইন' (Law of the Jungle) আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি আন্তর্জাতিক আইনের চূড়ান্ত লঙ্ঘন।

বেইজিংয়ের এই সমর্থন আকস্মিক নয়। ২০২১ সালে স্বাক্ষরিত ২৫ বছর মেয়াদী চীন-ইরান কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি এখন কার্যত অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন। তেহরান যখন তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি, বেইজিং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে পাশে দাঁড়িয়ে এক ধরনের 'নিরাপত্তা ছাতা' দিতে চাইছে। তবে এই সমর্থন সামরিক মোতায়েনের পরিবর্তে কূটনৈতিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক জীবনরেখা টিকিয়ে রাখার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে, যা চীনের 'বিশ্বশান্তি রক্ষাকারী' ইমেজ গড়ে তোলার উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেও ধারণ করে।

অপারেশন এপিক ফিউরি: নেতৃত্বহীন ইরান ও আঞ্চলিক অস্থিরতা

২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরের হামলা ছিল অত্যন্ত নিখুঁত ও প্রাণঘাতী। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খামেনেইকে তার নিরাপদ বাংকারে যাওয়ার পূর্বমুহূর্তে লক্ষ্য করে হত্যা করা হয়। এর ফলে ইরানে নেতৃত্বের এক গভীর শূন্যতা তৈরি হয়। শুধু রাজনৈতিক নয়, পারমাণবিক স্থাপনা ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তবে আন্তর্জাতিক মহলে সবচেয়ে বেশি নিন্দা কুড়িয়েছে মানবিক বিপর্যয়টি। মিনাব শহরে আইআরজিসি-র নৌঘাঁটির পাশে অবস্থিত একটি বালিকা বিদ্যালয়ে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে প্রায় ১৭০ শিক্ষার্থী নিহত হয়। অন্যদিকে, তেহরানের ঐতিহাসিক গোলেস্তান প্রাসাদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা ইরানিরা তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ওপর আক্রমণ হিসেবে দেখছে। এই হামলা দ্রুত লেবাননে ছড়িয়ে পড়ে; ইসরায়েল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করলে দক্ষিণ লেবানন থেকে সাত লক্ষেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। ইরানের পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দামকে অস্থিতিশীল করে তোলে।

কূটনৈতিক সমীকরণ: 'জঙ্গলের আইন' বনাম 'সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা'

চীনের প্রতিক্রিয়া ছিল তাৎক্ষণিক ও তীক্ষ্ণ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই একই সুরে বলেন, জাতিসংঘের ম্যান্ডেট ছাড়া এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। ওয়াং ই-র সেই মন্তব্য, "একটি শক্তিশালী মুষ্টি মানেই শক্তিশালী যুক্তি নয়", আজ আন্তর্জাতিক ফোরামে বহুল আলোচিত।

বেইজিংয়ের এই অবস্থান শুধু ইরানের প্রতি সমর্থন নয়; এটি নিজেদের রাজনৈতিক দর্শনেরও প্রতিফলন। 'রঙিন বিপ্লব' বা বহিরাগত শক্তি দ্বারা শাসন পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা চীনের নিজস্ব শাসন কাঠামোর জন্যও অপরিহার্য। ৮ মার্চ ওয়াং ই যে পাঁচটি নীতি ঘোষণা করেন, তা মূলত চীনের 'গ্লোবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ'-এরই প্রতিরূপ:

১. সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা অলঙ্ঘনীয়।

২. শক্তির অপব্যবহার (Might does not make right) প্রত্যাখ্যান।

৩. অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা।

৪. সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধান।

৫. বিশ্বশান্তিতে বৃহৎ শক্তির গঠনমূলক ভূমিকা।

এই পাঁচটি নীতির মাধ্যমে চীন নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের 'ধ্বংসের রাজনীতি'-র বিপরীতে 'স্থিতিশীলতার রক্ষক' হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে।

৪০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ: ইরানের অর্থনৈতিক জীবনরেখা

২০২১ সালের ২৫ বছর মেয়াদী চুক্তি এখন ইরানের জন্য অস্ত্রের চেয়েও বড় সুরক্ষা। এই চুক্তির আওতায় চীন ইরানে ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যুদ্ধের কারণে বিনিয়োগের গতি কিছুটা শ্লথ হলেও, এটি এখনো তেহরানের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৮০ শতাংশই যায় চীনে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চীন এই বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে, যা ইরানের অর্থনীতিকে চরম ধস থেকে রক্ষা করছে।

চীনের জন্য এটি দ্বিমুখী লাভ। একদিকে তারা বিশ্ববাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করছে, যা তাদের মোট সমুদ্রবাহিত তেল আমদানির প্রায় ১৩.৫ শতাংশ। অন্যদিকে, তেহরানের শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা বেইজিংয়ের জন্য জরুরি, কারণ পতন ঘটলে সৃষ্ট পশ্চিমাপন্থী সরকার চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

উত্তরসূরি সংকট ও চীনের নীরব সমর্থন

খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। ৩ মার্চ ইসরায়েলি হামলায় বিশেষজ্ঞ পরিষদের বৈঠক ব্যাহত হলে সংকট আরও গভীর হয়। শেষ পর্যন্ত খামেনেইয়ের পুত্র মোজতাবা খামেনেইয়ের নাম ঘোষণা করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নিয়োগকে 'অগ্রহণযোগ্য' বললেও, বেইজিং একে ইরানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে।

চীন মনে করে, মোজতাবার নেতৃত্বে ইরানের বর্তমান পশ্চিমাবিরোধী অবস্থান অব্যাহত থাকবে, যা বেইজিংয়ের কৌশলগত স্বার্থের অনুকূল। তবে ইরানের অভ্যন্তরে সম্ভাব্য গণবিক্ষোভ ও 'রঙিন বিপ্লবের' আশঙ্কায় চীন তেহরানকে নজরদারি প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ করে আসছে, যাতে শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

মধ্যস্থতাকারী চীন: ভারসাম্যের সূক্ষ্ম খেলা

যুদ্ধ এখন পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলা ও লোহিত সাগরে হুতিদের তৎপরতা বিশ্ব বাণিজ্যের গতিপথ বদলে দিয়েছে। এ অবস্থায় চীন নিজেকে একজন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। বেইজিংয়ের বিশেষ দূত মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকেই রিয়াদ, দুবাই ও অন্যান্য উপসাগরীয় রাজধানীতে সফর শুরু করেছেন।

চীনের মূল লক্ষ্য ইরানের সাথে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-এর দেশগুলোর সরাসরি সংঘাত এড়ানো। সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাত যদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তবে চীনের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই বেইজিং একদিকে ইরানের সার্বভৌমত্বের কথা বলছে, অন্যদিকে তেহরানকে হরমুজ প্রণালীতে কাতারের গ্যাস বা অন্যান্য জ্বালানি জাহাজ চলাচলে বাধা না দিতে চাপ দিচ্ছে। এই দ্বৈত নীতি চীনের কৌশলগত দক্ষতার পরিচয় দেয়।

হরমুজ প্রণালী ও জ্বালানির ভূ-রাজনীতি

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহের জীবনরেখা। অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু হওয়ার পর প্রণালীটি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। চীনের জন্য এটি সরাসরি হুমকি। বেইজিং বারবার সকল পক্ষকে এই রুট নিরাপদ রাখার আহ্বান জানিয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, চীন ইরানের সাথে গোপন আলোচনা চালাচ্ছে বিশ্ববাজারে প্রভাব কমানোর জন্য।

চীনের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা শুধু অর্থনীতির বিষয় নয়; এটি অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতারও বিষয়। তেলের দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়, যা ২০২৬ সালের ৪.৫-৫% জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ট্রাম্প-শি শীর্ষ সম্মেলন: ইরান কি দরকষাকষির হাতিয়ার?

এই যুদ্ধের মধ্যেই মার্চের শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। চীন এই সফরকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইছে। ওয়াং ই এই সফরকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, বেইজিং ইরান ইস্যুকে একটি দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। বিনিময়ে তারা বাণিজ্যযুদ্ধের শুল্ক অথবা তাইওয়ান ইস্যুতে নমনীয়তা দেখানোর প্রস্তাব দিতে পারে। তবে এই কূটনীতি ঝুঁকিপূর্ণ; ওয়াশিংটন যদি মনে করে চীন ইরানকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে, তাহলে এই সফর বাতিলও হতে পারে।

'রাজনৈতিক ঢাল': চীন কি সত্যিই যুদ্ধে নামবে?

প্রশ্ন হলো, চীন কি সত্যিই ইরানের পক্ষে সামরিক সংঘাতে নামবে? বর্তমান তথ্য বলছে, বেইজিং সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর কোনো পথে হাঁটছে না। চীনের সমর্থন মূলত রাজনৈতিক ও লজিস্টিক। কিছু প্রতিবেদনে ইরানি জাহাজে রাসায়নিক সামগ্রী সরবরাহের কথা বলা হলেও, চীন আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র সরবরাহের কথা অস্বীকার করেছে।

এই সতর্ক অবস্থানের পেছনে তিনটি কারণ কাজ করছে:

১. মার্কিন সম্পর্কের গুরুত্ব: তেহরান গুরুত্বপূর্ণ হলেও, ওয়াশিংটন চীনের প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও অংশীদার।

২. পারমাণবিক বিস্তার রোধ: একটি পারমাণবিক ইরান গোটা অঞ্চলে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু করবে, যা চীনের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর।

৩. জিসিসি দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক: সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে চীনের বিশাল বিনিয়োগ রয়েছে। তাদের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না বেইজিং।

তাই চীনের ভূমিকা একটি 'রাজনৈতিক ঢাল' হিসেবে। নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো দিয়ে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে পক্ষ নিয়ে তারা তেহরানকে সুরক্ষা দিচ্ছে।

মানবিক সংকট ও চীনা নাগরিকদের উদ্ধার

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চের মধ্যে চীন একটি বড় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ইরানে অবস্থানরত প্রায় ৩,০০০ চীনা নাগরিককে প্রতিবেশী দেশগুলোর স্থল সীমান্ত দিয়ে সরিয়ে নিয়েছে। তেহরানে এক চীনা নাগরিকের মৃত্যু বেইজিংয়ে শোকের ছায়া ফেলে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এই মৃত্যুকে নির্বিচার শক্তিপ্রয়োগের ফল বলে উল্লেখ করে বেসামরিক নাগরিক হত্যাকে 'লাল রেখা' অতিক্রমের ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেন।

বহুমুখী বিশ্বের দিকে যাত্রা: একটি ঐতিহাসিক মোড়

২০২৬ সালের মার্চের এই ঘটনাপ্রবাহ একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে: চীন এখন আর কেবল কারখানা নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক অভিনেতা। ইরানের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নেওয়ার মাধ্যমে বেইজিং একটি বার্তা দিয়েছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের দিন ফুরিয়ে আসছে।

চীনের এই অবস্থান চারটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে:

· সার্বভৌমত্বের রক্ষক: আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে ইরানের বৈধতা রক্ষা করা।

· অর্থনৈতিক জীবনরেখা: জ্বালানি বাণিজ্য টিকিয়ে রাখা।

· কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারী: নিজস্ব স্বার্থে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা করা।

· বিকল্প বিশ্বব্যবস্থা গড়া: 'জঙ্গলের আইনের' পরিবর্তে বহুমুখী কূটনীতির প্রস্তাব দেওয়া।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো ট্রাম্প-শি শীর্ষ সম্মেলনের ফলাফল নিয়ে। যদি সেই বৈঠক ব্যর্থ হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্য এক দীর্ঘস্থায়ী ছায়াযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যেতে পারে, যেখানে চীন ও রাশিয়া হবে ইরানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত: ২০২৬ সালের এই ফেব্রুয়ারি বিশ্ব রাজনীতির পুরনো সমীকরণ চিরতরে বদলে দিয়েছে।


Leave Your Comments




মত-বিশ্লেষণ এর আরও খবর