প্রকাশিত : ২৩:২৯
১৩ মার্চ ২০২৬
✍️ রেজুয়ান আহম্মেদ
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি—তারিখটি বাংলাদেশের ইতিহাসের ক্যালেন্ডারে চিরভাস্বর হয়ে রইল। দীর্ঘ সতেরো বছরের নির্বাসন, রক্তগঙ্গা বয়ে যাওয়া জুলাই বিপ্লবের পর এক অবিশ্বাস্য গণজোয়ারের ভেলায় চড়ে, জনতার অকুণ্ঠ ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে দেশের একাদশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান। ক্ষমতার এই হাতবদল কোনো সাধারণ রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এটি একটি জাতির দীর্ঘশ্বাসের অবসান, শোষণের শৃঙ্খল ভেঙে মুক্তির পথে যাত্রা। তাঁর প্রত্যাবর্তন এবং প্রতিটি পদক্ষেপ বিশ্লেষণ করলে চোখে পড়ে—তিনি নিছক রাজনীতির চেনা মুখ নন, তিনি এক দূরদর্শী রাষ্ট্রপুরুষ, যাঁর চিন্তার গভীরতা আর জনমানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা তাঁকে কালজয়ী এক উচ্চতায় আসীন করেছে। বিগত শাসকদের চেয়ে ভিন্ন পথে হাঁটা এই নেতার চিন্তার মৌলিকত্ব আর সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর অনুরাগ যেন বাংলাদেশের রাজনীতির বুকে নতুন এক সূর্যের উদয়।
বাংলার রাজপথে একদা যাঁরা কাঁধে অহংকারের বোঝা বহন করতেন, তাঁদের বিপরীতে একেবারে ভিন্ন চিত্র এঁকেছেন এই রাষ্ট্রনায়ক। বাংলাদেশের রাজনীতির চিরায়ত আধিপত্যবাদী ধারায় তিনি সঞ্চার করেছেন এক ইতিবাচক বিপ্লব। তাঁর নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় ও চাক্ষুষ পরিচয়—অসাধারণ বিনয় আর নিরহংকার ব্যবহার। সতেরো বছরের নির্বাসন তিনি নিছক কাটিয়ে দেননি; নীরব অধ্যয়নে ডুবে থেকেছেন, গবেষণায় মগ্ন থেকেছেন, বিশ্বের আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিজের চোখে দেখে, নিজের মনে গেঁথে নিজের চিন্তাজগৎকে সমৃদ্ধ করেছেন। একদল সমালোচক তাঁকে নিয়ে নানা কল্পকাহিনী রচনা করলেও দেশের মাটিতে পা রাখতেই জনতার সঙ্গে তাঁর সরাসরি মিশে যাওয়া সব অপপ্রচারকে ধুয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষক মহলে তাঁর এই অনন্য বৈশিষ্ট্য 'তারেক ম্যাজিক' বা 'তারেক টনিক' নামে পরিচিত—নম্রতা আর উদারতার এক অপূর্ব সম্মিলন। হাসপাতালের শয্যায় অসুস্থ এক সহকর্মীর পাশে দাঁড়ানো কিংবা কোনো পথশিশুর মাথায় হাত বোলানো—এইসব দৃশ্যে কখনো কৃত্রিমতার ছায়া পড়ে না। ফুটে ওঠে এক সংবেদনশীল মানুষের অকৃত্রিম মমতা। তিনি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন, ক্ষমতা কখনো শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক নয়, বরং এক পবিত্র দায়িত্ব। তাঁর ভাষ্যে, 'বৃহৎ ক্ষমতার সঙ্গে বৃহৎ দায়িত্ব অর্পিত হয়'—এই জীবনবোধ তাঁকে সাধারণ মানুষের চোখে অসাধারণ করে তুলেছে। তিনি মানুষকে সম্মান জানাতে জানেন, ছোট-বড় সবার কথা ধৈর্য ধরে শোনেন। তাঁর এই শ্রবণক্ষমতা তাঁকে অন্যসব নেতা থেকে স্বতন্ত্র করে রেখেছে।
শুধু ব্যক্তিজীবনেই নয়, তাঁর এই বিনয়ের প্রভাব পড়েছে গোটা রাজনৈতিক অঙ্গনে। তাঁর নম্র ব্যবহারে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যেও শিষ্টাচার ও শৃঙ্খলার সঞ্চার হয়েছে। তিনি বারবার স্মরণ করিয়ে দেন—জনগণের সমর্থনই রাজনীতির প্রাণশক্তি, আর সেই জনগণের ওপর অত্যাচার বা অন্যায় কোনো মতেই বরদাশত করা হবে না। তাঁর মতো রাষ্ট্রপ্রধানের সান্নিধ্যে এসে প্রশাসন থেকে সাধারণ মানুষ—সবাই নিরাপদ ও সম্মানিত বোধ করছে, যা একটি দেশের স্বাভাবিক পথে চলার জন্য অপরিহার্য।
তারেক রহমানের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিছক সংখ্যার খেলা নয়; এটি বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো আর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের এক বিজ্ঞানসম্মত রূপরেখা। তাঁর ঘোষিত লক্ষ্য—২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ৪৬০ বিলিয়ন ডলার থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। এই অভিযাত্রায় তিনি বার্ষিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কাঠামো তৈরি করেছেন, যেখানে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২৩ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
যেখানে পূর্ববর্তী শাসকেরা মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতিতে মত্ত ছিলেন, সেখানে তাঁর দৃষ্টি উৎপাদনমুখী ও কর্মসংস্থানমুখী অর্থনীতির দিকে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং কুটির শিল্পের বিকাশে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন, যাতে দেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত অর্থনৈতিক গতিশীলতা ছড়িয়ে পড়ে।
তাঁর অর্থনৈতিক দর্শনের অন্যতম অনন্য দিক 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নীতি। এর মাধ্যমে তিনি বৈদেশিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছেন। ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং খাতকে আধুনিক করে আট লক্ষ আইটি পেশাদার তৈরির পরিকল্পনা এবং তাঁদের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা সহজে দেশে আনার জন্য নিরাপদ আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি—এসব যেন দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক নতুন স্বপ্নের দুয়ার খুলে দিয়েছে। আগে কখনো কোনো রাষ্ট্রপ্রধান এত সুনির্দিষ্টভাবে তাঁদের ভবিষ্যৎ গড়ার কথা ভাবেননি।
তাঁর রাষ্ট্রচিন্তার মর্মমূলে রয়েছে '৩১ দফা' সংস্কার পরিকল্পনা। এটি নিছক একটি রাজনৈতিক ইশতেহার নয়; বরং একটি রাষ্ট্রকে কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি স্বৈরতন্ত্রের খপ্পর থেকে বের করে এনে টেকসই গণতন্ত্রের পথে হাঁটানো যায়, তার পূর্ণাঙ্গ দলিল। এই পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে তিনি ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন—বাংলাদেশের ইতিহাসে যা সত্যিই বিরল।
তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন, কোনো ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। তাঁর এই প্রস্তাব যেন ক্ষমতার প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত নির্লোভতারই পরিচয়। এছাড়া তিনি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থা চালুর কথা বলেছেন, যেখানে সমাজের বিশিষ্ট নাগরিক, বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীরা রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিতে পারবেন। এর ফলে সংসদ সত্যিকার অর্থেই জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রস্থলে পরিণত হবে।
সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করে সংবিধানের সব বিতর্কিত ও অগণতান্ত্রিক সংশোধনী পর্যালোচনা করে তা বাতিল বা সংশোধন করা হবে এবং 'গণভোট' প্রথা পুনরায় চালু করা হবে। একটি স্থায়ী সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সুসংহত করতে গঠন করা হবে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয় এবং নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে। আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করে গত ১৬ বছরের আর্থিক অনিয়মের ওপর প্রকাশ করা হবে শ্বেতপত্র।
এসব সংস্কার বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে—যা আগে ছিল শুধু কল্পনায়। তাঁর বিশ্বাস, একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনই দেশের উন্নয়নের পথকে সুগম করে।
তাঁর নেতৃত্বে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ে এসেছে অভাবনীয় পরিবর্তন। 'ফ্যামিলি কার্ড' ও 'ফার্মার কার্ড'—এই দুই ভরসার হাত ধরে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করেন, উন্নয়ন শুধু ধনীদের জন্য নয়, তা সমাজের একেবারে তলানিতে থাকা মানুষের দ্বারপ্রান্তেও পৌঁছাতে হবে।
'ফ্যামিলি কার্ড' কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে মাসিক নগদ সহায়তা (২,০০০-২,৫০০ টাকা) অথবা নিত্যপ্রয়োজনীয় চাল, ডাল, তেল, লবণ। এটি শুধু দরিদ্র পরিবারকে সাহায্য নয়, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে এক বৈপ্লবিক অধ্যায়। আর 'কৃষক কার্ড'-এর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকেরা ভর্তুকি মূল্যে পাচ্ছেন সার, বীজ, কীটনাশক ও কৃষি যন্ত্রপাতি—যার ছোঁয়ায় দেশের কৃষি উৎপাদনে লেগেছে নতুন হাওয়া।
স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারেও তাঁর পরিকল্পনা সুদূরপ্রসারী। নতুন ভবন নির্মাণের চেয়ে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন সেবার মান উন্নয়নে। এক লক্ষ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যাঁদের ৮০ শতাংশই নারী। তাঁরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াবেন, যা দেশের স্বাস্থ্য সূচকের উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করতে তিনি যে দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছেন, তা অভূতপূর্ব। শিক্ষা খাতকে তিনি ব্যয় হিসেবে নয়, রাষ্ট্রের প্রধান বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করেন। শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, মাধ্যমিক স্তরে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে কারিগরি শিক্ষা।
তবে তাঁর শিক্ষাদর্শনের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো বহুভাষিক শিক্ষাব্যবস্থা। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি স্প্যানিশ, জাপানি, ফরাসি বা চীনা ভাষা শেখার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে, যাতে বাংলাদেশের তরুণেরা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নেতৃত্ব দিতে পারে। তাঁর এই ভাবনা শিক্ষাব্যবস্থার আমূল বদল ঘটিয়ে কর্মসংস্থানমুখী নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলবে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিপ্লব আনতে 'ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব' কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। আইটি খাতে আট লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। শাহবাগের ছাত্র সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি বলেছিলেন, "আধুনিক বিশ্বে টিকে থাকতে তাত্ত্বিকের চেয়ে ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা বেশি কার্যকর।" তাঁর এই দিকনির্দেশনা তরুণ সমাজকে নতুন আশার পথ দেখাচ্ছে।
শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। তাঁরই প্রতিফলন 'ন্যাশনাল গ্রিন মিশন'। আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষাকে তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ করেছেন।
অন্যান্য পরিকল্পনার মধ্যে আছে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখনন, যা জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সহায়তা করবে। উপকূলে ২০০ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বাগান তৈরি, ক্ষতিকর প্লাস্টিক ও শিল্পবর্জ্য ধীরে ধীরে নিষিদ্ধ করে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবস্থা চালু করা হবে। এই প্রকৃতিবান্ধব চিন্তা প্রমাণ করে—তিনি কেবল ক্ষমতার রাজনীতি নয়, একটি বাসযোগ্য সবুজ পৃথিবী নির্মাণেরও স্বপ্ন দেখেন।
ঢাকার যানজট কমাতে ও দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে তিনি এক নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। ফ্লাইওভার বা সড়ক নয়, তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন সারা দেশে রেল নেটওয়ার্ক পুনর্গঠনের ওপর। তাঁর স্বপ্ন—এমন একটি সমন্বিত রেল ব্যবস্থা যাতে মানুষ নিজ জেলায় বসবাস করেও প্রতিদিন ঢাকায় অফিস করতে পারে। এতে রাজধানীর ওপর চাপ কমবে, গতি পাবে বিকেন্দ্রীকরণ।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও যানজট নিরসনে তিনি বিশেষ নজর দিয়েছেন, কারণ এতে প্রতিদিন যে বিপুল অর্থ, সময় ও শ্রম নষ্ট হয়, তা আর কাম্য নয়। উন্নয়নের নামে প্রকল্প ঝুলিয়ে রাখার অতীত সংস্কৃতি বদলানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। জনগণের সেবা পেতে দীর্ঘ প্রতীক্ষা—এটাকে তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত মনে করেন এবং দ্রুত পরিবর্তন চান।
তাঁর পররাষ্ট্রনীতি অত্যন্ত সুষম ও জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক। 'সবার আগে বাংলাদেশ' স্লোগানকে সামনে রেখে তিনি পরিচালনা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সমমর্যাদা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক রাখতে চান তিনি।
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)-কে পুনরায় সক্রিয় করতে উদ্যোগ নিয়েছেন—যা তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন। আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গেও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের পরিকল্পনা করেছেন। ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান ও আস্থাশীল কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়তেও এগিয়ে আসছেন। তাঁর এই বৈশ্বিক দৃষ্টি বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমান কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়—তিনি নীরবে ও সুশৃঙ্খলভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রটাকে মেরামত করছেন। তাঁর মতো মানবিক ও জনবান্ধব নেতৃত্ব আগে দেখা যায়নি। ক্ষমতায় বসেই প্রথম নির্দেশ দিয়েছিলেন—সরকারি সুবিধাভোগী হয়ে কেউ বিলাসী হতে পারবে না। সংসদ সদস্যেরা শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ ত্যাগ করেছেন—বাংলাদেশের ইতিহাসে যা এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
তাঁর চরিত্রের বিনয় আর শিষ্টাচার সাধারণ মানুষকে মুগ্ধ করেছে। তিনি শুধু বড় জনসভাতেই বক্তৃতা দেন না, ছোট পথসভায় নেমে মানুষের সঙ্গে হাত মেলান, তাঁদের কথা শোনেন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন ও নেতৃত্ব অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের কাছেই 'তারেক ম্যাজিক'। মানুষকে সম্মান জানাতে জানেন তিনি, আর সেই সম্মানের প্রতিদানে জনগণ তাঁকে বিপুল ভালোবাসায় সিক্ত করছে।
একটি ছোট ঘটনা তাঁর বিনয়ের পরিচয় দেয়—লন্ডনের নির্বাসিত জীবনে তিনি পার্কে হাঁটতেন, কোনো জাঁকজমক বা নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই, সাধারণ মানুষের মতো। ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকেও তাঁর এই নির্মোহ ও নিরহংকার ব্যক্তিত্ব তাঁকে জনগণের হৃদয়ে স্থান করে দিয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, রাষ্ট্র তখনই এগোয় যখন তার প্রধান নিজেকে শাসক নয়, সেবক মনে করেন।
তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ এক নতুন সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়। তাঁর আধুনিক চিন্তা, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ছক আর ব্যক্তিগত বিনয় তাঁকে অতুলনীয় জননেতায় পরিণত করেছে। পূর্ববর্তী নেতাদের চেয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনেক বেশি বাস্তবমুখী, বিজ্ঞানসম্মত ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ।
তাঁর ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার আর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার এক মডেল রাষ্ট্র। 'সবার আগে বাংলাদেশ' স্লোগান এখন প্রতিটি নাগরিকের মুখে মুখে ফেরে। এমন এক দূরদর্শী ও মানবিক রাষ্ট্রপ্রধানকে পেয়ে দেশ যে আপন গতিতে সমৃদ্ধির পথে এগোবে, সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। তিনি শুধু একজন প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি আজ বাংলাদেশের নতুন পরিচয়ের স্থপতি, ১৮ কোটি মানুষের আস্থার প্রতীক। তাঁর এই ইতিবাচক ও সৃষ্টিশীল নেতৃত্ব অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ অচিরেই বিশ্বসভায় এক উন্নত ও মর্যাদাবান রাষ্ট্র হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।