প্রকাশিত : ১৮:২৮
০৪ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক : ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের কোনো ধস নামলে বা সংঘাত চললে সেখানে দ্রুত রাজনৈতিক পরিবর্তনের যে সম্ভাবনা ট্রাম্প প্রশাসন দেখছে, তা বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, দেশটিতে বর্তমানে এমন কোনো সুসংগঠিত বা স্পষ্ট বিরোধী আন্দোলন নেই, যা বর্তমান ব্যবস্থার বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
ম্যালকম এইচ কের কার্নেগি মিডল ইস্ট সেন্টারের পরিচালক মাহা ইয়াহিয়া কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মূল্যায়ন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "ইরানে এমন কোনো সংগঠিত বিরোধী শক্তি নেই, যারা এই মুহূর্তে দেশের দায়িত্ব নিতে সক্ষম।"
ইয়াহিয়ার মতে, ইরানে ক্ষমতা নির্দিষ্ট কোনো কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠী, রাজনৈতিক কাঠামো এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছড়িয়ে আছে। ফলে কোনো একক আন্দোলনের মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া প্রায় অসম্ভব।
শাহের উত্তরসূরি ও কুর্দি বিদ্রোহের বাস্তবতা
বর্তমানে ইরানের বাইরে অবস্থানরত প্রাক্তন শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির পুত্রকে একমাত্র ঘোষিত বিরোধী নেতা হিসেবে দেখা হয়। তবে দেশের অভ্যন্তরে তাঁর প্রভাব নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। অন্যদিকে, কুর্দিদের নেতৃত্বে বড় কোনো বিদ্রোহের মাধ্যমে শাসনব্যবস্থা পাল্টে দেওয়ার যে ধারণা পশ্চিমা মহলে রয়েছে, তাকে 'সম্পূর্ণ ভুল হিসাব' বলে অভিহিত করেছেন ইয়াহিয়া।
সামনের পথ: বিশৃঙ্খলা ও দমন-পীড়ন
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কোনো কারণে বর্তমান কাঠামোর পতন ঘটলে সেখানে গণতন্ত্রের পরিবর্তে 'অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব' এবং 'বৃহত্তর বিশৃঙ্খলা' দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে সংঘাত-পরবর্তী তেহরানে সাধারণ নাগরিকদের ওপর দমন-পীড়নের মাত্রা কমার বদলে আরও বাড়তে পারে।
মাহা ইয়াহিয়া সতর্ক করে বলেন, "যদি আগামীকালই বোমা হামলা বা বাহ্যিক সংঘাত বন্ধ হয়ে যায়, তবুও ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অত্যন্ত নড়বড়ে ও দুর্বল থেকে যাবে।"