✍️ নিজস্ব প্রতিবেদক: অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-কে ঘিরে কোনো ধরনের নতুন সংকট সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পাঠানো এক চিঠিতে বইমেলার সার্বিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি সংযত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সমন্বয়ে আয়োজিত এক সভায় বইমেলায় কোনো প্রকার স্টল বা প্যাভিলিয়ন বন্ধের তালিকা না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সমিতির ভাষ্য, বইমেলার নির্মাণ ও প্রস্তুতিমূলক কাজে অযথা বাধা সৃষ্টি করা কাম্য নয়; একই সঙ্গে গৃহীত সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করে নতুন কোনো জটিলতা তৈরির চেষ্টা থেকেও বিরত থাকা উচিত।
চিঠিতে সমিতির নেতারা বলেন, "যেভাবে স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ আছে, সেভাবেই যেন তা বহাল থাকে এবং এতে যেন কোনো নতুন সংকট সৃষ্টি না হয়—সে বিষয়ে আপনার বিশেষ হস্তক্ষেপ কামনা করছি।" তাঁদের মতে, প্রকাশনা শিল্প একটি সৃজনশীল খাত; এখানে হঠাৎ কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হলে ক্ষতিগ্রস্ত হন লেখক, প্রকাশক ও পাঠক—সবারই।

সমিতির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, নতুন করে স্টল বা প্যাভিলিয়ন বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা বইমেলার সামগ্রিক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলেও অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন মেলা স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক মো. আবুল বাশার ফিরোজ শেখ এবং সদস্য সচিব মো. মনিরুজ্জামান খান। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন, যাতে অমর একুশে বইমেলা তার স্বাভাবিক ও উৎসবমুখর পরিবেশে চলতে পারে।
প্রকাশনা খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বইমেলা শুধু বেচাকেনার আয়োজন নয়; এটি বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান উৎসব। তাই কোনো প্রশাসনিক বা নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় জরুরি। বইমেলা ঘিরে যাতে অচলাবস্থা বা অনিশ্চয়তা তৈরি না হয়, সে দিকেই এখন সবার দৃষ্টি।
Leave Your Comments