প্রকাশিত : ১১:৫৭
১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
✍️ নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজারে আজ টানা বিক্রির চাপে কেটেছে লেনদেন। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স (DSEX) দিনের শেষভাগে আরও নিম্নমুখী হয়ে ৫,৪৬৫ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে অবস্থান করে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৫৩ দশমিক ২১ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ কম। বাজারের সামগ্রিক চিত্রে লাল রঙের প্রাধান্যই ছিল স্পষ্ট—মাত্র ৪৩টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে দর কমেছে ৩০৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৩টি।
লেনদেনের পরিসংখ্যান বলছে, বাজারে কার্যক্রম থেমে থাকেনি। মোট ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৫০টি লেনদেনের মাধ্যমে হাতবদল হয়েছে প্রায় ৫৬০ কোটি টাকার শেয়ার; মোট শেয়ারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৪৬ কোটি। অর্থাৎ সূচক নিম্নমুখী হলেও লেনদেনে অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য—যা একদিকে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা, অন্যদিকে দ্রুত মুনাফা উত্তোলনের প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।
দিনভর চার্ট পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, শুরুর দিকে সূচকে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রির চাপ বাড়তে থাকে। দুপুরের পর সূচক ক্রমেই নিম্নমুখী হয়ে দিনের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি এসে বন্ধ হয়। বাজার বিশ্লেষকদের ভাষায়, এ ধরনের পতন স্বল্পমেয়াদি আস্থার ঘাটতির প্রতিফলন।
খাতভিত্তিক চিত্রে ব্যাংক, টেক্সটাইল ও ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল বেশি। তবে অধিকাংশ খাতেই দরপতনের প্রভাব পড়েছে। ফার্মাসিউটিক্যালস, ফুয়েল অ্যান্ড পাওয়ার এবং কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে মাঝেমধ্যে ক্রয়চাপ দেখা গেলেও তা বাজারের সামগ্রিক নেতিবাচক প্রবণতা রুখতে পারেনি। জীবনবীমা খাতেও দরপতনের চাপ স্পষ্ট ছিল।
বড় মূলধনী (ব্লু-চিপ) অনেক শেয়ার লাল ঘরে অবস্থান করায় সূচকের ওপর চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের কিছু ভারী শেয়ারের দরপতন সূচককে নিচে নামাতে মূল ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিনিয়োগকারীদের একাংশ বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে টানা অস্থিরতার কারণে অনেকেই ঝুঁকি কমাতে শেয়ার ছেড়ে দিচ্ছেন। আবার অন্য অংশের মতে, এটি একটি স্বাভাবিক সংশোধন (কারেকশন); শক্তিশালী মৌলভিত্তির শেয়ারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সব মিলিয়ে আজকের বাজার সতর্কবার্তাই দিয়েছে। লেনদেনের গতি থাকলেও আস্থা এখনো পুরোপুরি ফিরেনি। আগামী কার্যদিবসে বাজারের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ও বড় মূলধনী শেয়ারে ক্রয়চাপের ওপর। সূচক ৫,৪৫০ পয়েন্টের আশপাশে টেকসই সমর্থন পায় কি না—সেদিকেই এখন নজর বিনিয়োগকারীদের।