প্রকাশিত : ১০:১৩
১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক তদন্তের অংশ হিসেবে ইংল্যান্ডের নরফোকের স্যান্ডরিংহ্যাম এস্টেটে অস্থায়ী বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
টেমস ভ্যালি পুলিশ আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। পুলিশ জানিয়েছে, ‘সতর্ক মূল্যায়নের’ পর তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সেই সঙ্গে তার ব্যাপারে একটি তদন্ত শুরু হয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ সম্প্রতি এপস্টেইন সম্পর্কিত যেসব নথি প্রকাশ করেছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তির মধ্যে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রুর নামও রয়েছে। নথিগুলোর মধ্যে এমন কিছু ইমেইল রয়েছে, যাতে এপস্টেইনকে বাকিংহাম প্যালেসে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানানোর কথা উল্লেখ রয়েছে।
একই সঙ্গে এপস্টেইন তার ওই যোগাযোগকারী ব্যক্তিকে ২৬ বছর বয়সি এক রুশ নারীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেন বলেও নথিতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রকাশিত কিছু ছবিতে এমন দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে অ্যান্ড্রু বলে ধারণা করা একজন ব্যক্তি মেঝেতে শুয়ে থাকা এক অজ্ঞাত ব্যক্তির ওপর হাঁটু গেড়ে বসে আছেন।
হাড় হিম করা এসব নথি প্রকাশের পর আবারও প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শুরু হয় বিতর্ক ও সমালোচনা। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি বলেন, জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি ও কর্মকাণ্ডের তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সহযোগিতা করা উচিত।
এরপর বড় ভাই রাজা তৃতীয় চার্লসও তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, অভিযোগগুলো টেমস ভ্যালি পুলিশ খতিয়ে দেখলে বাকিংহাম প্যালেস সহায়তা করতে প্রস্তুত।
রাজপ্রাসাদের একজন মুখপাত্র বলেন, অ্যান্ড্রুকে নিয়ে ক্রমাগত অভিযোগ সামনে আসায় রাজা চার্লস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যদিও অভিযোগগুলোর জবাব দেয়ার দায়িত্ব অ্যান্ড্রুর নিজের। তবে টেমস ভ্যালি পুলিশ যদি যোগাযোগ করে, তবে রাজপরিবার সহায়তা করতে প্রস্তুত।
এ সময় টেমস ভ্যালি পুলিশ জানায়, রিপাবলিক নামে রাজতন্ত্রবিরোধী একটি গোষ্ঠী তাদের কাছে অভিযোগ দিয়েছে। এটি তদন্তের ভিত্তি আছে কি না তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। গোষ্ঠীটি অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে সরকারি পদে থেকে অসদাচরণ এবং সরকারি গোপনীয়তা ভঙ্গের অভিযোগ করেছে।