প্রকাশিত :  ১৭:০০
১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সূচকে লাল আভা, তবু আতঙ্ক নয়: সংশোধনের দিনে বাজারের বার্তা কী?

সূচকে লাল আভা, তবু আতঙ্ক নয়: সংশোধনের দিনে বাজারের বার্তা কী?

✍️ রেজুয়ান আহম্মেদ 

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শেষ হয়েছে লাল আভায়। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১১.১০ পয়েন্ট কমে ৫৫৮৯.৫৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে সূচকে কিছুটা সবুজের আভাস থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রির চাপ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত বাজার মৃদু নেতিবাচক অবস্থায় বন্ধ হয়েছে—যা আতঙ্কের চেয়ে এক ধরনের সতর্ক সংশোধন হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

লেনদেনের চিত্র বলছে, আজ মোট ২৮৯ হাজারের বেশি ট্রেড হয়েছে; টাকার অঙ্কে লেনদেনের পরিমাণ ১২৫৭ কোটি টাকার কিছু বেশি। তবে বাজারের প্রস্থ ছিল দুর্বল—১৫০টি কোম্পানির দর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ২১২টির। অপরিবর্তিত ছিল ২৫টি। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারই দিন শেষে লাল রঙে অবস্থান করেছে।

কেন নেতিবাচক হলো বাজার?

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, টানা কয়েক দিনের উত্থানের পর স্বাভাবিকভাবেই কিছু বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নিয়েছেন। চার্টে দেখা যায়, সকাল ১০টার পর সূচক দ্রুত নিচে নেমে এক পর্যায়ে তল স্পর্শ করে; পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও পুরোপুরি ফিরতে পারেনি। এই ধরনের ‘ডিপ অ্যান্ড রিকভার’ প্যাটার্ন সাধারণত স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।

খাতভিত্তিক চিত্রে ব্যাংক ও ওষুধ খাতে লেনদেন বেশি হলেও দরবৃদ্ধির চেয়ে দরপতনের সংখ্যাই ছিল বেশি। বীমা ও কিছু প্রকৌশল খাতের শেয়ারে চাপ লক্ষ করা গেছে। বাজার মানচিত্রে (মার্কেট ম্যাপ) লালের আধিক্য স্পষ্ট—যা সামগ্রিক আস্থায় সামান্য টানাপোড়েনের প্রতিফলন।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সূচকের অবস্থান। ৫৬০০ পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করে স্থায়ী হতে না পারায় অনেক বিনিয়োগকারীর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি সংশয় তৈরি হয়েছে। ফলে ৫৬০০-এর কাছাকাছি এলেই বিক্রির প্রবণতা বাড়ছে।

তাহলে কি বড় পতনের আভাস?

চার্টের ভলিউম বিশ্লেষণ বলছে, পতন হলেও আতঙ্কজনক বিক্রিচাপ দেখা যায়নি। লেনদেনের পরিমাণ ছিল মাঝারি মাত্রার। বড় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিক্রির ছাপ স্পষ্ট নয়। বরং এটি এক ধরনের ‘টেকনিক্যাল কারেকশন’—অর্থাৎ টানা সবুজের পর কিছুটা শ্বাস নেওয়ার বিরতি।

ডিএসইএস ও ডিএস৩০ সূচকও সামান্য কমেছে, তবে বড় ধরনের পতন হয়নি। বাজারের সামগ্রিক কাঠামো এখনো সম্পূর্ণ নেতিবাচক মোড়ে যায়নি।

আগামীকাল মঙ্গলবার কেমন যেতে পারে?

প্রযুক্তিগত দৃষ্টিতে ৫৫৫০–৫৫৬০ পয়েন্টের অঞ্চলটি এখন গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক স্তর (সাপোর্ট)। যদি সূচক এই অঞ্চলের ওপরে স্থির থাকে এবং লেনদেনে কিছুটা গতি ফিরে আসে, তবে মঙ্গলবার বাজারে আংশিক ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক ও ব্লু-চিপ শেয়ারে ক্রয়চাপ দেখা দিলে সূচক আবার ৫৬০০ পয়েন্টের দিকে ধাবিত হতে পারে।

তবে এই সহায়ক স্তর ভেঙে গেলে স্বল্পমেয়াদে আরও ৩০–৪০ পয়েন্ট নিচে নামার ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা

অভিজ্ঞ বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এমন দিনে আতঙ্কিত হয়ে সিদ্ধান্ত না নিয়ে খাতভিত্তিক শক্তিশালী কোম্পানির দিকে নজর রাখা উচিত। কারণ বাজারের চরিত্র এখনো পুরোপুরি দুর্বল হয়নি; বরং এটি দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছে।

সব মিলিয়ে, সোমবারের লাল রংকে বড় বিপর্যয়ের সংকেত না ভেবে সতর্ক সংশোধন হিসেবেই দেখছেন অনেকে। মঙ্গলবারের বাজার নির্ভর করবে—ক্রেতারা কতটা আস্থা নিয়ে মাঠে নামেন, তার ওপর। সূচক কি আবার সবুজে ফিরবে, নাকি আরও একটু নিচে নেমে শক্ত ভিত গড়বে—সেই উত্তর মিলবে আগামীকালের লেনদেনে।


Leave Your Comments




পুঁজি বাজার এর আরও খবর