প্রকাশিত : ০৭:১৬
০২ মে ২০২২
যুক্তরাজ্য জুড়ে খাবার তেলের সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সানফ্লাওয়ার তেলের। দেশটির রেস্ট্রুরেন্ট ব্যবসায়ীদের খাবার তৈরিতে নির্ভরশীলতার অন্যতম জায়গা হচ্ছে সানফ্লাওয়ার তেল। কিন্তু এই খাবার তেলের সংকটরে কারনে প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে কিংবা খাবার তালিকা থেকে বেশি তেলের তৈরি খাবার বাদ দিতে হচেছ রেস্ট্রুরেন্ট ব্যবসায়ীদের। তবে সব থেকে বেশি সমস্যার মধ্যে পরতে হচ্ছে ‘ফিস এন্ড চিপসের’ রেস্ট্রুরেন্টগুলোকে। এই খাতের প্রায় সাড়ে তিন হাজার রেস্ট্রুরেন্ট তেলের সংকটের কারনে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা।
বলা হচ্ছে, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ব্রিটেনের ফিস এবং চিপসের শপগুলো ইতিহাসের 'সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ফেডারেশন অফ ফিশ ফ্রায়ার্স এর তথ্য মতে, ইউকে জুড়ে প্রায় সাড়ে দশ হাজার ফিস এবং চিপসের দোকান রয়েছে। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শপ তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিতে পারে।
ইউক্রেন বিশ্বের বৃহত্তম সানফ্লাওয়ার ওয়েল উৎপাদনএবং রপ্তানিকারক দেশ। রাশিয়া দেশটিতে আক্রমণ করার পরই প্রতি ড্রাম সানফ্লাওয়ার তেলের দাম প্রায় ৩০ পাউন্ড থেকে বেড়ে ৪৪ পাউন্ড হয়েছে। এই যুদ্ধের কারনে পাম তেল এবং রেপসিড তেলও মার্কেটে তাদের দাম বাড়িয়েছে দিয়েছে।
এ সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রিউ ক্রুক বলেন, সানফ্লাওয়ার তেলের সংকট থাকায় বিকল্পগুলো ব্যবহারের চেষ্টা করছে। কিন্তু রেপসিড তেলের সরবরাহ খুবই কম কারণ গত বছর রেপসিডের ফসল খারাপ হয়েছিল। পাম তেলের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। যদি সূর্যমুখী তেল, রেপসিড তেল এবং পাম তেল না থাকে তবে ফিস ও চিপসের শপের জন্য ব্যবসা করা খুব কঠিন হতে চলেছে।
এদিকে ইন্দোনেশিয়া সরকারের পাম ওয়েল রপ্তানি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বব্যাপী পাম সহ ভেজিটেবল ওয়েলের দামও বাড়ছে। এই সংকটজনক অবস্থায় ইউকের সুপারমার্কেট গুলোতে একজন গ্রাহক দুই বোতলের বেশি সানফ্লাওয়ার ওয়েল নিতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছে। নিদৃষ্ট লিমিট বেধে দিলেও মার্কেটের সেলফ গুলোতে পাওয়া যাচ্ছে না তেল।
অবজারভেটরি অফ ইকোনমিক কমপ্লেক্সিটির মতে, ২০১৯ সালে ইউক্রেন বিশ্বব্যাপী ৪৮ শতাংশ সূর্যমুখী এবং কুসুম তেল রপ্তানি করে। এরপর দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়া সাড়া বিশ্বের সরবরাহের ২৪ শতাংশ রপ্তানি করেছে।