প্রকাশিত : ০৮:৩৮
২৯ জানুয়ারী ২০২৬
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা এখন থেকে সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবের পাশাপাশি মেয়াদি আমানতের বিপরীতেও সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারবেন। এছাড়া আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে মাসিক ভিত্তিতে মেয়াদি আমানতের মুনাফা তোলার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
তিনি আরও জানান, রেমিট্যান্স ও সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে অর্জিত মুনাফা তাৎক্ষণিকভাবে উত্তোলন করা যাবে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গভর্নর।
গভর্নর বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কিছু দুষ্টুচক্র ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। এসব নিয়ে বিভিন্ন মহলে কিছু অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সেগুলো নিরসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো পরিকল্পনাই শতভাগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। ধীরে ধীরে সমস্যাগুলো চিহ্নিত হয় এবং সেগুলো সমাধানে কাজ করা হয়। তবে কিছু মহল একীভূত কার্যক্রম বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, যে যত অপপ্রচার করুক, সকল আমানতকারীর মূল আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে পর্যায়ক্রমে তা ফেরত দেওয়া হবে। এ বিষয়ে আগেও জানানো হয়েছে। বর্তমানে গ্রাহকরা যেকোনো স্কিম থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা তুলতে পারছেন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে সম্পূর্ণ বাজারদরে মুনাফা দেওয়া হচ্ছে। এক বছরের বেশি মেয়াদি আমানতে মুনাফার হার ৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং এক বছরের কম মেয়াদি আমানতে ৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এখানে আমানতকারীদের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকার দুই বছরের জন্য যে ৪ শতাংশ সহায়তা দিচ্ছে, তাতে অতিরিক্ত প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। তাই কেউ যেন গুজবে বিভ্রান্ত না হয়।
ঋণের নামে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করেছে সরকার। এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর এক লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা আছে। তাদের বিতরণ করা এক লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা ঋণের ৭৭ শতাংশ এখন খেলাপি।