প্রকাশিত : ০৬:১৭
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে সামান্য পতন দেখা দিয়েছে। এতে অনেক বিনিয়োগকারীর মনে দুশ্চিন্তা কাজ করছে। শেয়ারমূল্য সামান্য কমলেই অনেকে ভীত হয়ে পড়েন, যেন আতঙ্ক তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। অথচ মনে রাখা দরকার—এটাই শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক নিয়ম। উত্থানের পর পতন আসবে, আবার পতনের ভেতর লুকিয়ে থাকবে নতুন উত্থানের সম্ভাবনা।
আজ যারা আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি করছেন, কাল তারাই হয়তো দেখবেন সেই শেয়ারের দাম বহুগুণ বেড়ে গেছে। ইতিহাস বারবার আমাদের এই শিক্ষা দিয়েছে। তাই ভয় নয়—এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো আস্থা ও ধৈর্য ধরে এগিয়ে যাওয়া।
পুঁজিবাজারের আসল শক্তি হলো ধৈর্য। যারা সাময়িক ওঠানামা মেনে নিয়ে অপেক্ষা করতে পারেন, তারাই দীর্ঘমেয়াদে সফল হন। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিল্প খাতে নতুন গতি—সবকিছুই অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করছে। এর ইতিবাচক প্রভাব অবধারিতভাবে পুঁজিবাজারেও পড়বে। আজ না হোক, কাল এর প্রতিফলন নিশ্চিতভাবেই দেখা যাবে।
বিশেষজ্ঞরাও আশাবাদী। তাদের মতে, আগামী মাসগুলোতে সূচক আবারও ঊর্ধ্বমুখী হবে। ব্যাংক, ওষুধ, জ্বালানি ও আইটি খাত নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে। ইতিমধ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও বাজারে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। ফলে সামনে এমন কিছু সুখবর আসতে পারে, যা আজকের দুশ্চিন্তাকে পুরোপুরি ভুলিয়ে দেবে।
প্রশ্ন হলো—আমরা কি সাময়িক ভয়ে ভেসে যাব, নাকি আস্থা নিয়ে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকব? সঠিক উত্তর হবে—আস্থা। কারণ ধৈর্যশীল বিনিয়োগকারীরাই বাজারে ইতিহাস তৈরি করেন, আর আতঙ্কিতরা হারিয়ে যান সময়ের স্রোতে।
এই মুহূর্তে বিনিয়োগকারীদের জন্য আমাদের বার্তা স্পষ্ট:
ভয় পাবেন না,
আস্থা রাখুন,
ধৈর্য ধরুন।
কারণ সামনে যে সুখবর আসছে, তা কেবল তাদের জন্যই, যারা সাহস নিয়ে স্থির থাকতে পারবেন।