প্রকাশিত : ১০:৩২
২৯ মার্চ ২০২২
শেয়ারবাজারে এসএমই প্লাটফর্মে লেনদেনের শর্ত শিথিল করার ঘোষণা দিতেই এই বাজারের সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরের দিন এসএমই মার্কেটের ১টি ছাড়া সব শেয়ারের দর বেড়েছে। বেশিরভাগ শেয়ার আজ লেনদেন হয়েছে সার্কিট ব্রেকারের প্রায় সর্বোচ্চ দরে।
আগেরদিন (২৮ মার্চ) বিকালে ডিএসইর ঘোষণা দেওয়ার আগ পর্যন্ত শেয়ারবাজারে এসএমইতে লেনদেন করার যোগ্য হওয়ার জন্য ডিএসইর ইএসএস ওয়েবসাইটে প্রদত্ত অনলাইন ফর্ম পূরণ করে, তা ডিএসইতে মেইল করতে হতো। এরপরে ডিএসই তা যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিত। এরপরে একজন বিনিয়োগকারী ওই বাজারে লেনদেন করতে পারতেন। তবে এখন থেকে বিনিয়োগকারীদেরকে রেজিস্ট্রশন করা লাগবে না। পোর্টফোলিওতে ২০ লাখ টাকার বিনিয়োগ (ক্রয় মূল্য বা বাজার দরের সর্বোচ্চটা বিবেচ্য) থাকলেই ডিএসই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেজিস্ট্রেশন করে দেবে।
ডিএসইর এই ঘোষণার পরে মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) মূল্যসূচক বেড়েছে সাড়ে ৮১ পয়েন্ট বা ১০.১২ শতাংশ। এতে করে আগের দিনের ৮০৬ পয়েন্টের সূচকটি ৮৭৭ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
এই বড় উত্থানের পেছনে একমাত্র কারণ হিসাবে রয়েছে এসএমই মার্কেটে লেনদেন হওয়া ১টি ছাড়া সবগুলো শেয়ারের দর বৃদ্ধি। এদিন সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ দর বেড়েছে ওয়ান্ডারল্যান্ড টয়েজের। এছাড়া মাস্টার ফিড অ্যাগ্রোর ১৯.৮০ শতাংশ, ওরিজা অ্যাগ্রোর ১৯.৮০ শতাংশ, মামুন অ্যাগ্রোর ১৯.৮০ শতাংশ, মোস্তফা মেটালের ১৯.৬৪ শতাংশ, নিয়ালকো অ্যালয়েজের ১৯.৪৫ শতাংশ, কৃষিবিদ ফিডের ১৮.৬২ শতাংশ, বেঙ্গল বিস্কুটের ১৭.৫৫ শতাংশ দর বেড়েছে। এছাড়া হিমাদ্রি লিমিটেডের শেয়ারটি আগের দিনের থেকে ১৯.৫৭ শতাংশ বেশিতে বিনিয়োগকারীরা কিনতে চাইলেও বিক্রেতা ছিল না বলে লেনদেন হয়নি। বাকি এপেক্স ওয়েভিংয়ের দর কমেছে ৬.৮৩ শতাংশ।
এর আগে কয়েক দফায় এসএমইতে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো উদ্যোগ নিলেও তা খুব একটা ফলোদায়ক হয়নি। এক্ষেত্রে অন্যতম একটি বাধা ছিল রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া। কারন শুধু বিনিয়োগকারী না, অধিকাংশ ব্রোকারেজ হাউজ কর্তৃপক্ষই এ রেজিস্ট্রেশনের বিষয়ে অবহিত না। এছাড়া এসএমই মার্কেটে মূল মার্কেটের মতো লেনদেন করা গেলেও অনেকে তা জানেন না। একটি বিও হিসাব দিয়েই যে মূল মার্কেট এবং এসএমইতে লেনদেন করা যায়, সেটাও অনেকেই জানেন না। এটা জানানোর জন্যও কেউ এগিয়ে আসেনি।
এছাড়া এই খাতটি নতুন হলেও শেয়ারবাজারে রেগুলেটর থেকে শুরু করে সবার মধ্যেই প্রচারণাও অভাব রয়েছে। যে কারণে এসএমইতে আসা কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর এখনো ১০ টাকার কাছেই অবস্থান করছিল। যে কোম্পানিগুলোর আগামি ৩ বছর কমপক্ষে ১০ শতাংশ করে ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ একই কোম্পানিগুলো যদি মূল মার্কেটে লেনদেন শুরু হতো, তাহলে অভিহিত মূল্যের কয়েকগুণ দরে লেনদেন হতো।
এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এসএমই মার্কেটে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর হওয়ার জন্য শেয়ারবাজারে ৫০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ২০ লাখ টাকায় বিনিয়োগ নামিয়ে আনে বিএসইসি। অর্থাৎ ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ থাকলেই কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর হিসেবে বিবেচ্য হবে। এই এসএমই মার্কেটে লেনদেন করার জন্য কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর হিসেবে বিবেচ্য হওয়ার শর্ত রয়েছে।
বিভিন্ন পক্ষের দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চায় এমন স্বল্প মূলধনী কোম্পানির জন্য উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে ‘স্মল ক্যাপিটাল প্লাটফর্ম’ নামে আলাদা বাজার গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। এর প্রেক্ষিতে স্বল্প মূলধনের কোম্পনির জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফার বাই স্মল ক্যাপ কোম্পানিজ) রুলস-২০১৬ প্রনয়ন করে। তবে ২০১৮ সালে এর কিছু বিধির সংশোধন আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) স্মল ক্যাপ মার্কেট (এসএমই) প্লাটফর্ম উদ্বোধন করা হয়। ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এসএমই প্লাটফর্ম উদ্বোধনের আড়াই বছর পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে শেয়ারবাজারে এসএমই প্রতিষ্ঠানের লেনদেন শুরু হয়।
প্রথমিকভাবে ৬টি কোম্পানি নিয়ে শুরু হয় ডিএসইর এসএমই প্লাটফর্মের লেনদেন। এই ছয় কোম্পানি হল- বেঙ্গল বিস্কিুট, ওয়ান্ডারল্যান্ড টয়, অ্যাপেক্স ওয়েভিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিং মিলস, মাস্টার ফিড এগ্রো, অরিজা এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ এবং হিমাদ্রী লিমিটেড।